নির্বাচনে অনিয়মের আশঙ্কায় কড়া হুঁশিয়ারি জামায়াত মহাসচিবের, কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ বার্তা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

নির্বাচন কেন্দ্রিক অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। ঠাকুরগাঁও জেলায় আয়োজিত একটি জনসভায় তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, আগামী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো অবস্থাতেই যেন কারচুপির সুযোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো কেন্দ্রে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতির চেষ্টা করা হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কেন্দ্র ঘিরে ফেলতে হবে এবং সেখানে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের আটকে রেখে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কেউ যেন কোনো পরিস্থিতিতেই কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। তিনি বলেন, প্রিসাইডিং অফিসারদের দড়ি দিয়ে খুঁটিতে বেঁধে রেখে আমাদের ফোন করবেন, যাতে কেউ জালিয়াতি করার সুযোগ না পায়। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের দৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।

একই দিনে পৃথক আরেকটি ঘটনায় নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত এক পুলিশ সদস্যকে লক্ষ্য করে গাড়ি তুলে দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে নির্বাচনি আমেজ ও উত্তাপের মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এ ধরনের কঠোর মন্তব্য বা হুশিয়ারি অনেক সময় মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে, যা সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য মূলত তাদের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার একটি কৌশল। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে দলগুলো যে ধরনের দাবি জানিয়ে আসছিল, এবারের মন্তব্যে তার একটি কঠোর প্রতিফলন দেখা গেছে। তবে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্ব মূলত নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ঘিরে রাখা বা আটকে রাখার এ ধরনের আহ্বান আইনগত দিক থেকে কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

এদিকে, ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে জেলা প্রশাসন। নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। এ ধরনের হামলার ঘটনা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো বড় কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও কঠোর বক্তব্য মাঠ গরম করে তুলছে। একদিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের কেন্দ্র পাহারার মাধ্যমে অনিয়ম প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার মতো ঘটনা জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁও তথা দেশের নির্বাচনি পরিস্থিতি এখন বেশ সংবেদনশীল। সাধারণ ভোটাররা আশা করছেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার পাশাপাশি শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করবে এবং প্রশাসন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন