খুলনায় পুলিশপ্রধানের সফর চলাকালেই গুলিবিদ্ধ স্থানীয় যুবদল নেতা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ

খুলনা জেলায় যখন পুলিশের মহাপরিদর্শকের সফর এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, ঠিক তখনই একই জেলায় সংঘটিত হলো একটি ভয়াবহ গুলির ঘটনা। জেলাজুড়ে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা বলয় থাকার পরেও খুলনার তেরখাদা উপজেলায় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই হামলায় রামিম বিশ্বাস নামের এক স্থানীয় যুবদল নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও এলাকায় পরিচিত।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের দিকে যখন খুলনা অঞ্চলে পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরের সফর এবং সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, সেই সময়ের মধ্যেই অতর্কিতে তেরখাদা এলাকায় এই হামলাটি চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রামিম বিশ্বাস তার নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে মোটরসাইকেলে বা অন্য কোনো যানবাহনে করে দুইজন দুর্বৃত্ত সেখানে উপস্থিত হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় রামিমের পেটে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। দিনের আলোয় প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে একজন রাজনৈতিক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতি ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় রামিম বিশ্বাসকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানা গেছে। গুলির আঘাত কতটা গভীর এবং তা অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে কতটা ক্ষতি করেছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ঘটনার পরপরই স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ হাসপাতালে ভিড় জমান এবং দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

খুলনা অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যে ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। একের পর এক হত্যা, গুলি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ নাগরিকরা অনেকটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শকের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যখন সফর করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই সন্ত্রাসীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে, অপরাধীদের মধ্যে আইনের কোনো ভয়ভীতি নেই। পুলিশের নিরাপত্তা বলয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই ধরনের হামলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তেরখাদা এলাকাটি অতীতেও বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে বর্তমানে যে ধারাবাহিকতায় সহিংসতা বাড়ছে, তা এলাকার সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলছে। বিশেষ করে, যখন প্রশাসনিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সফর চলছে, তখন এই ধরনের হামলার সাহস অপরাধীরা কোথা থেকে পায়, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

এখন পর্যন্ত এই হামলার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক কারণ নাকি ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত শত্রুতা রয়েছে, তা পুলিশ তদন্তসাপেক্ষে নিশ্চিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খুলনার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই চরম অবনতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে, নতুবা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন