রংপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত, ক্ষুব্ধ যাত্রীদের হাতে মারধরের শিকার রেলের কর্মী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ

রংপুরের বদরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে আন্তঃনগর দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার বিকেলে রংপুর থেকে পার্বতীপুরগামী এই ট্রেনটির দুটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পরপরই দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ওপর চড়াও হন। এ সময় ট্রেনের গার্ড ও চালককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

বদরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটের দিকে ট্রেনটি স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ করেই ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, বিকট শব্দে বগিগুলো লাইন থেকে ছিটকে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার পরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ট্রেনের ভেতরে থাকা যাত্রীরা। তারা রেলওয়ের দায়বদ্ধতা এবং নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে রেলের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যাত্রীদের একটি বড় অংশ ট্রেনের গার্ড এবং চালককে ঘিরে ফেলে মারধর শুরু করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার মতো আশেপাশে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বদরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার ইমরুল কায়েস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে বগিগুলো লাইনচ্যুত হলো, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাইনচ্যুতির পরপরই রংপুর ও দিনাজপুরের মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। উদ্ধারকারী দল খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে, তবে যাত্রীদের হামলার কারণে উদ্ধার তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ট্রেনের অনেক যাত্রীই আতঙ্কিত ছিলেন, কিন্তু তাদের একটি অংশ রেলওয়ে কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেন। মারধরের ফলে রেলের দায়িত্বরত কর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে দুর্ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ যাত্রীদের এই আচরণে স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বগিগুলো সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু করবে। রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরই ট্রেন চলাচলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঘটনার পর ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মানুষ ভিড় করেন। ট্রেন লাইনচ্যুতির সঠিক কারণ অনুসন্ধান এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার খাতিরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করবে বলে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। বর্তমানে লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধারের কাজ চলমান রয়েছে। রেলের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার কাজ শেষে এবং রেললাইন মেরামত সম্পন্ন হওয়ার পরেই ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন