কানাডায় অভিবাসন জালিয়াতির ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ

কানাডায় বড় ধরনের অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিবাসন জালিয়াতির এই ঘটনাটি কানাডার নথিপত্র এবং আইনি অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে এই মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, কানাডা সরকারের অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে চারজন হলেন রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া এবং কাজী নাফিজ আলম। তারা ইতিমধ্যে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। তবে পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পলাতক থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। তখন কুইবেকের মারসিয়ে শহরে একটি ভবনে অভিযান চালায় কানাডার সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সেই সময় তাদের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই অভিযানের সময় অভিবাসন সংক্রান্ত কিছু অসঙ্গতি ও আইনি আইন লঙ্ঘনের আলামত পাওয়া যায়। ওই বছরের আগস্ট মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করে সিবিএসএ।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতির জাল বুনেছিল। তারা প্রায় ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য মোট ২৪৩টি অস্থায়ী আবাসিক ভিসার আবেদন জমা দিয়েছিল। ভিসা পাওয়ার আবেদনের ক্ষেত্রে তারা মিথ্যা তথ্য প্রদানের পাশাপাশি জালিয়াতিপূর্ণ নথিপত্র ব্যবহার করেছিল। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, আবেদনকারীরা কানাডার নাগরিকদের আমন্ত্রণে দেশটিতে ভ্রমণ করতে যাচ্ছেন, যা আসলে ভিত্তিহীন ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করতে ২০২৫ সালের জুন মাসে কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি পৃথক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ নথিপত্র এবং কম্পিউটার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়, যা এই ভিসা জালিয়াতির সঙ্গে অভিযুক্তদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। উদ্ধার করা আলামতগুলো বিশদ বিশ্লেষণের পর অপরাধের মাত্রা ও জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি আদালতে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় সিবিএসএ।

কানাডার সীমান্তরক্ষী সংস্থা বলছে, অভিবাসন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তারা এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এই মামলার মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাকে অপব্যবহারকারীদের একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে সংস্থাটি। বর্তমানে অভিযুক্ত চারজনের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া বা বিচারিক শুনানি চলছে এবং রাকিবুল হাসানের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের আইনি পদক্ষেপ চলমান রেখেছে। অভিবাসন সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে কানাডার আইনকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করায় স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন