প্রতিকূলতাকে জয় করে অদম্য মেধায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন সামিয়া বেগম। কিন্তু সাফল্যের আনন্দের পাশাপাশি তার মনে দানা বেঁধেছিল ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা। অভাবী সংসারে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ করা যেন এক পাহাড়সম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে সামিয়ার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বন্ধুসভা। তার আগামী দুই বছরের পড়াশোনার যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নিয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি।
সামিয়ার পারিবারিক পরিস্থিতির খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, তার বাবার নাম আব্দুল হাই। তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের ঝামারবালি গ্রামে। তবে বর্তমানে তারা জেলা শহরের দক্ষিণ মৌড়াইল এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। বাবা, মা ও ভাই-বোনকে নিয়ে তাদের ছয় সদস্যের সংসার। সামিয়ার বাবা বর্তমানে কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত নন। পরিবারের ভরণপোষণ জোগাতে তিনি কখনো ফেরি করে পণ্য বিক্রি করেন, আবার কখনো দিনমজুরি করেন। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত এই পরিবারে সামিয়ার পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়াটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সামিয়া বেগম জানান, জিপিএ-৫ পাওয়ার পর আনন্দ হওয়ার চেয়েও বেশি ভয়ের উদ্রেক হয়েছিল। পরবর্তী ধাপে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সংগতি তাদের নেই। বাবা বেকার থাকায় সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালানোই যেখানে অসম্ভব, সেখানে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বিলাসিতা মনে হচ্ছিল। সেই মুহূর্তে বন্ধুসভার এই সহায়তা তার জীবনে নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে। এই সহযোগিতার ফলে এখন তিনি নিশ্চিন্তে তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।
সামিয়ার মতো অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীই প্রতিবছর আর্থিক সংকটের কারণে মাঝপথে পড়ালেখা ছাড়তে বাধ্য হন। সামিয়ার পরিবার বন্ধুসভার এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তাদের মতে, এই সাহায্য শুধুমাত্র সামিয়ার পড়াশোনা নয়, বরং পুরো পরিবারের মানসিক সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে। বন্ধুর বিপদে বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়ানোর এই সংস্কৃতি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সহায়ক হবে।
বন্ধুসভার স্থানীয় শাখার স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, সামিয়ার সংগ্রামের কথা শোনার পর তারা দেরি করতে চাননি। তার মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখে তারা তাকে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। আগামী দুই বছর সামিয়ার কলেজ বা উচ্চশিক্ষার যাবতীয় খরচ বন্ধুসভা বহন করবে। সংগঠনের সদস্যরা মনে করেন, একটি ছোট পদক্ষেপও একজন মেধাবীর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। সামিয়া ভবিষ্যতে বড় হয়ে একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং সমাজের প্রয়োজনে কাজ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তারা।
সামিয়ার সাফল্যের খবর ও বন্ধুসভার এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় এলাকায় বেশ প্রশংসিত হয়েছে। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার এই স্বপ্নযাত্রায় সামিয়ার পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে বন্ধুসভা আবারও প্রমাণ করল যে, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করলে পিছিয়ে পড়া মেধাবীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। দারিদ্র্য যে শিক্ষার অন্তরায় হতে পারে না, সামিয়া ও তার পাশে দাঁড়ানো এই সংগঠনটি তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:১৪ অপরাহ্ণ