দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে স্থানীয় নির্বাচনের যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের কোনো লক্ষণ তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। গণতন্ত্রের চর্চায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ অপরিহার্য হলেও বর্তমানে তা অনুপস্থিত বলে তিনি মনে করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন হতে হবে ভয়ভীতি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত। কিন্তু বর্তমানে যে প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, সেখানে ভয়ভীতি ও দলীয় আধিপত্যের চর্চা স্পষ্ট। এ ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে ভোটগ্রহণ করা হলে তা কখনোই নিরপেক্ষ বা সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। ভোটাররা যদি নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন, তবে সেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে, যা বর্তমানে দৃশ্যমান নয়।
নির্বাচন নিয়ে এই শঙ্কার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর একটি সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জামায়াতের শীর্ষ এই নেতা। সম্প্রতি এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কোনো একটি রাজনৈতিক দল প্রসঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের উল্লেখ করে এভাবে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। প্রধানমন্ত্রী দেশের সবার অভিভাবক, তাই বিশেষ কোনো দলের বিরুদ্ধে এভাবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কথা বলে জনসম্মুখে সমালোচনা করাটা রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জামায়াতের আমির আরও উল্লেখ করেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অধীনে কাজ করে এবং তাদের সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় থাকে। কিন্তু এই ধরনের তথ্য বা প্রতিবেদন যদি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি রাজনৈতিক বাদানুবাদে ব্যবহারের জন্য জনসমক্ষে নিয়ে আসা হয়, তবে তা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হবে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে, গোয়েন্দা তথ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয় ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার চেষ্টায় নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের আমিরের এই মন্তব্য দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতারই প্রতিফলন। সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট যে গভীর পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় এসব মন্তব্যে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকারের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে জনমনে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবেই বোঝাতে চেয়েছেন যে, বর্তমান সরকার দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নির্বাচন প্রভাবিত করতে চাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।
পরিশেষে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি মনে করেন, দেশের জনগণ একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করে, যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে দেশে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায় বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ৯:১৪ অপরাহ্ণ