সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে অটোরিকশা চালিয়েই প্রাণ হারালেন মুয়াজ্জিন আবদুল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ৮:১৪ অপরাহ্ণ

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের দৈন্যদশা দূর করার লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করতে গিয়ে আবদুল হক নামের একজন মুয়াজ্জিন দুর্বৃত্তদের নৃশংসতার শিকার হয়েছেন। তিনি পেশায় ছিলেন একজন মসজিদের মুয়াজ্জিন। সংসার পরিচালনার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় কিস্তির মাধ্যমে একটি অটোরিকশা কেনেন তিনি। কিন্তু সেই অটোরিকশাটিই শেষ পর্যন্ত তার কাল হয়ে দাঁড়ায়।

নিহত আবদুল হকের বাড়ি ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের মাটিয়াগোদা গ্রামে। তার বাবার নাম ওসমান হাওলাদার। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই আবদুল হক মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে নিজেকে ব্যস্ত রাখার পাশাপাশি সংসারের খরচ মেটাতে বাড়তি উপার্জনের কথা তাকে ভাবতে হতো। সেই চিন্তা থেকেই সম্প্রতি তিনি কিস্তির সুবিধা নিয়ে একটি অটোরিকশা কেনেন। দিনের বেলা মসজিদের কাজ শেষ করে বাকি সময়টা তিনি অটোরিকশা চালিয়ে আয়-রোজগারের চেষ্টা করতেন।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। পথিমধ্যে কোনো নির্জন স্থানে অথবা যাত্রীবেশে থাকা অপরাধীরা সুযোগ বুঝে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে তাকে মৃত্যু নিশ্চিত জেনে দুর্বৃত্তরা তার অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই আবদুল হকের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত অমায়িক এবং পরিশ্রমী ছিলেন। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের লক্ষ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য তৎপর রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

নিহত আবদুল হকের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন দিশেহারা তার পরিবার। অটোরিকশার কিস্তি পরিশোধের চাপ আর সংসারের ভরণপোষণ—সব মিলিয়ে তারা এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়লেন। অপরাধীদের খুঁজে বের করা এবং এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এলাকায় এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সবাই দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের অপেক্ষায় আছেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন