যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:১৪ অপরাহ্ণ

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন তরুণ। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেপরোয়া গতির দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মহাসড়কের ব্যস্ত এই পথে যাতায়াতের সময় হঠাৎ করেই মোটরসাইকেল দুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তারা হলেন যশোর সদর উপজেলার মণ্ডলগাতী গ্রামের শামিম হোসেনের ছেলে সিয়াম হোসেন এবং যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম জয়। তবে দুর্ঘটনায় নিহত তৃতীয় ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন এবং লাশগুলো উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন। অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার জন্য পুলিশ কাজ করছে বলে জানা গেছে।

মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে বেপরোয়া গতি ও অসতর্কতা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে চালকদের উদাসীনতা ও ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা এই ধরণের প্রাণহানির মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে তরুন প্রজন্মের মধ্যে হাইস্পিডে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন। দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কে যান চলাচল কিছুটা সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ এসে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে হাইওয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মোটরসাইকেলগুলোর গতি অনেক বেশি থাকায় চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।

নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ময়নাতদন্ত শেষে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মহাসড়কে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করতে নিয়মিত নজরদারি এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন। অন্যথায়, এমন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন