ফুটবল বিশ্বের অভিভাবক সংস্থা ফিফা তাদের আয়োজনের পরিধি আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে উদীয়মান কিশোর ফুটবলারদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ টুর্নামেন্টটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই নতুন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে ফিফার সদস্যভুক্ত সব দেশের ফুটবল ফেডারেশনগুলো। স্বাভাবিকভাবেই এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তরুণ খেলোয়াড়দের মাঝে যেমন উত্তেজনা কাজ করছে, তেমনি দেশগুলোর ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের মাঝেও তৈরি হয়েছে নতুন এক প্রত্যাশা। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দলও এই প্রতিযোগিতার প্রথম সংস্করণ থেকেই নিজেদের সক্ষমতা জানান দিতে প্রস্তুত হয়ে উঠেছে।
টুর্নামেন্টের শুরুতেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে। শনিবার, ২৪ অক্টোবর ফুটবল বিশ্বের নতুন এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েলসের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। আজারবাইজানের বাকু শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় মাঠে গড়াবে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই আন্তর্জাতিক আসরে প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করাটা নিঃসন্দেহে যেকোনো দলের জন্য আত্মবিশ্বাস অর্জনের বড় উপায়। ওয়েলসের মতো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা কেমন কৌশল অবলম্বন করে, তা এখন দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
ফিফার সদস্য থাকা সব দেশের জন্য উন্মুক্ত এই বিশ্বকাপ তরুণ ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দিচ্ছে। বয়সভিত্তিক ফুটবলের এই আসরগুলো সাধারণত ভবিষ্যৎ তারকা তৈরির কারখানা হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের জন্য এই বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং নিজেদের ফুটবল অবকাঠামো ও তৃণমূল পর্যায়ের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের সাথে তুলনা করার এক অনন্য সুযোগ। দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন ও প্রস্তুতির পর দলটি এখন ম্যাচ খেলার জন্য মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে প্রস্তুত। কোচের অধীনে কিশোর ফুটবলাররা তাদের সেরাটা দেওয়ার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।
আজারবাইজানের বাকুতে আয়োজিত এই আসরের ভেন্যু এবং পরিবেশ কিশোরদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার খোরাক যোগাবে। প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টের মঞ্চে পা রাখা এই তরুণদের জন্য এটি জীবন বদলানোর মতো একটি অভিজ্ঞতা হতে পারে। ম্যাচের আগে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে প্রবল আত্মবিশ্বাস। ওয়েলসের বিপক্ষে কৌশলগত দিক থেকে বাংলাদেশ কতটা শক্তিশালী অবস্থানে থাকে, তা মাঠের খেলাতেই নির্ধারিত হবে। দলের রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে এই ম্যাচে বাংলাদেশের মূল চ্যালেঞ্জ।
ফুটবল বিশ্বে সাধারণত বড় দেশগুলোর আধিপত্য থাকলেও বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলোতে চিত্র প্রায়ই ভিন্ন হয়। অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ের ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতার চেয়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও মাঠের বুদ্ধিমত্তা বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ দল এই বিষয়টি মাথায় রেখেই তাদের খেলার পরিকল্পনা সাজিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম ম্যাচে ওয়েলসের মতো শক্ত প্রতিপক্ষকে হারানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে দল। সমর্থকদের প্রত্যাশা, নতুন প্রজন্মের এই খেলোয়াড়রা দেশের ফুটবলের মানদণ্ডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
টুর্নামেন্টের ফরম্যাট অনুযায়ী প্রতিটি ম্যাচই নকআউট পর্যায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যেহেতু এটি প্রথম সংস্করণ, তাই ফিফার পক্ষ থেকেও টুর্নামেন্টটিকে ঘিরে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আসরে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি এবং ভিনদেশি আবহাওয়া মানিয়ে নিয়ে আজারবাইজানের মাঠে নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দেওয়াই এখন বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলারদের মূল লক্ষ্য।
পরিশেষে, অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ফুটবলের এই প্রথম আসরটি আগামীর তারকাদের চেনার মঞ্চ হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের জন্য এই টুর্নামেন্টে ভালো ফল করা শুধু সম্মান নয়, বরং দেশের ফুটবল উন্নয়নের এক অনন্য বিজ্ঞাপন। ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয় বা ড্র, যা-ই আসুক না কেন, অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ করেই মাঠ ছাড়বে বাংলাদেশ। কোটি ফুটবলপ্রেমীর প্রার্থনা এবং শুভকামনা এখন বাংলাদেশের এই তরুণদের সঙ্গেই রয়েছে। বাঘের মতো লড়ে ফুটবল বিশ্বে নিজেদের অবস্থান তৈরির লড়াই শুরু করার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৪ পূর্বাহ্ণ