চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশে যাত্রীবাহী মারসা পরিবহনের বাসের সঙ্গে একটি প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ সন্ধ্যা নাগাদ এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাড়িটি ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালকসহ ভেতরে থাকা আরোহীরা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও প্রাইভেটকারটি পুলিশ জব্দ করেছে। এই ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়, তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
একই মহাসড়কের অন্য একটি এলাকায় আজ আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মহাসড়কের পাশের একটি ঝোপ থেকে এক নবজাতককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় পথচারীরা কান্নার শব্দ শুনে এগিয়ে গিয়ে ঝোপের আড়ালে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। সাথে সাথে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কীভাবে শিশুটি সেখানে এল বা কারা তাকে এভাবে ফেলে রেখে গেছে, তা নিয়ে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ভাগ্যক্রমে শিশুটি বেঁচে গেছে, অন্যথায় বড় কোনো অঘটন ঘটতে পারত। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
আজকের এই দুই ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে মহাসড়কে বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া মানুষগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে নবজাতককে এভাবে ফেলে রেখে যাওয়ার অমানবিক ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, উভয় ঘটনার বিষয়েই প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ চলছে যাতে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। স্থানীয়রা মনে করছেন, মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ না করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটবে। এছাড়াও, নবজাতক উদ্ধারের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশ্বস্ত করেছে যে, দ্রুতই সব তথ্য উন্মোচিত হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। আপাতত আহতদের চিকিৎসা এবং নবজাতকের সুচিকিৎসার দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:১৪ অপরাহ্ণ