বিআইপি বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:১৪ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা—বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) আজ একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায় যে, সরকার কর্তৃক বিআরটি (বসতবাড়ি র‍্যাপিড ট্রান্সপোর্ট) প্রকল্প বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিলুপ্তি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা গভীর বিস্ময় ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের নগর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে, এ কথা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান জোর দিয়ে বলেছেন।

বিআইপি কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংস্থার সদস্যরা সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে জানতে পেরেছেন যে, সরকার বিআরটি প্রকল্পের সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এই প্রকল্পের জন্য গঠিত সংস্থাকে বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা করেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে, সংস্থার নেতৃত্ব দ্রুতই একটি সমন্বিত প্রতিবাদ গঠন করে এবং সরকারকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানায়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, বিআরটি প্রকল্পটি দেশের প্রধান নগর এলাকায় দ্রুত ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছিল। পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই প্রকল্পের বাতিল কেবলমাত্র নগর যাতায়াতের সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক ব্যয়ও বাড়িয়ে দেবে।

অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দীন হাসান উল্লেখ করেন, “বিআরটি প্রকল্পের বাতিলের পেছনে যদি কোনো আর্থিক বা প্রযুক্তিগত অপ্রতুলতা থাকে, তবে তা স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা উচিত। তবে বর্তমান সময়ে আমরা যে তথ্য পেয়েছি, তা থেকে স্পষ্ট যে সিদ্ধান্তটি হঠাৎ এবং যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিআইপি হিসেবে আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যে, এই সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা করে প্রকল্পটি পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।”

বিআইপি এই মুহূর্তে সরকারকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছে যে, বিআরটি প্রকল্পের বাতিলের পেছনের কারণগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হোক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিলুপ্তি সংক্রান্ত কোনো আইনি বা নীতিগত বাধা না থাকে তা নিশ্চিত করা হোক। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, যদি প্রকল্পের পুনরায় চালু করা সম্ভব না হয়, তবে বিকল্প কোনো পরিকল্পনা তৈরি করে তা জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা উচিত।

বিআরটি প্রকল্পের সমর্থকরা ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিভিন্ন ফোরাম ও সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তি দেন যে, দেশের দ্রুত নগরায়নের সঙ্গে সঙ্গে গণপরিবহনের আধুনিকায়ন অপরিহার্য, এবং বিআরটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল যা ট্রাফিক জ্যাম কমাতে এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাস করতে সহায়তা করত।

অন্যদিকে, সরকারী সূত্র থেকে এখনো পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তের পেছনের নির্দিষ্ট কারণ বা কোনো বিকল্প পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, বাজেটের সীমাবদ্ধতা, আন্তর্জাতিক ঋণ শর্তাবলী বা প্রকল্পের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকতে পারে। তবে এসব অনুমানই বিআইপি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্যের অভাবে অনুমানসাপেক্ষই রয়ে গেছে।

বিআইপি এই বিষয়টি নিয়ে আগামী সপ্তাহে একটি পাবলিক সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে পরিকল্পনাবিদ, নগর পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং নীতি নির্ধারকরা একত্রে আলোচনা করবেন কীভাবে দেশের নগর পরিবহন কাঠামোকে আরও টেকসই ও কার্যকর করা যায়। এই সেমিনারের মাধ্যমে বিআইপি আশা করে যে, সরকার ও জনসাধারণের মধ্যে একটি গঠনমূলক সংলাপ গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং বিআরটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সমন্বিত সমাধান বের করা যাবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন