সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের একটি ছবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংলগ্ন ও উসকানিমূলক মন্তব্যের জেরে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মো. আবু বক্কর সিদ্দিক নামের এক যুবককে আটকের পর তার বাবা মো. আয়নাল হককেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করে। পরবর্তীতে তার বাবাকেও আটক করা হয়। বর্তমানে দুজনকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রেখে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে প্রধানমন্ত্রীর ছবি পোস্ট করার পর আবু বক্কর সিদ্দিক সেখানে অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। বিশেষ করে স্নাইপার বা বন্দুক হামলা নিয়ে তার মন্তব্যটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এ ধরণের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার একটি অপপ্রয়াস হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে এ ধরণের মানহানিকর ও উসকানিমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে সরকার যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, এটি তারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে, আটক যুবকের করা মন্তব্যের ভাষা এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি কেবল নিজের ইচ্ছায় নাকি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর প্ররোচনায় এমন মন্তব্য করেছেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। এছাড়া তার সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত আছেন কি না, সে বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে আবু বক্করের বাবাকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, সন্তানের এহেন কর্মকাণ্ডের দায় পরিবারকে নিতে হতে পারে, তবে তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে যে পরিবারটি তার এই উগ্র মতবাদের সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত ছিল কি না।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরণের বিদ্বেষমূলক প্রচারণার ক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উসকানি দেয়, তবে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাইবার অপরাধ দমনে ডিবি প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছে এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করা এখন অনেক সহজ হয়েছে। আবু বক্করের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই তাকে শনাক্ত করা হয়েছে।
আটক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ও তার বাবা মো. আয়নাল হকের পরিবার এবং তাদের অতীত কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। আবু বক্কর অতীতে কোনো রাজনৈতিক বা উগ্রবাদী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিল কি না, তাও গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন। সাধারণত এ ধরণের মন্তব্যের পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে আশঙ্কা থাকে, যা তদন্তের মাধ্যমে বের হয়ে আসবে। এখন পর্যন্ত ডিবি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় সম্মান রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব সময় সজাগ থাকে। বিশেষ করে বর্তমানে সাইবার জগৎ উন্মুক্ত হওয়ায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে নানা ধরণের গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণার ঝুঁকি বেড়েছে। এ অবস্থায় প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সংযত থাকা এবং সঠিক তথ্য যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়ে আসছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। আবু বক্করের এই ঘটনা অন্যদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের আদালতে হাজির করা হবে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ডিবি হেফাজতে থাকাকালীন তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ