সৌদি রুটে ফ্লাইট বাতিল ১৩৫, যাত্রা অনিশ্চয়তায় ২০ হাজারের বেশি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হুথিদের হামলার পর দেশটির কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। নিরাপত্তা বিবেচনায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের গন্তব্যে যাওয়ার ১৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ১০ অক্টোবর থেকে বাতিলের ঘটনা শুরু হয়। এসব ফ্লাইটে ভ্রমণের কথা ছিল এমন ২০ হাজার ৬৭২ জন যাত্রী যাত্রা করতে পারেননি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় এই হিসাব জানান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাতিলের সংখ্যা এখন ১৩৫-এ পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট হওয়ায় ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কোন কোন দিনে কতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, কিংবা বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলো কোন কোন সংস্থার ছিল—সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে আলাদা কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইটও স্থগিত থাকার খবর পাওয়া গেছে। ফলে ওই দুই শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে সব ১৩৫টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কতটি, কিংবা অন্য উড়োজাহাজ সংস্থার কতটি ফ্লাইট রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। বাতিলের সংখ্যা মোট ফ্লাইটের হিসাব; নির্দিষ্ট কোনো একটি এয়ারলাইনসের হিসাব হিসেবে একে দেখার সুযোগ নেই।

যাত্রীসংখ্যার হিসাবে ২০ হাজার ৬৭২ জন এই বিঘ্নের আওতায় পড়েছেন। তাঁদের সবার পরিস্থিতি এক রকম—এমন তথ্য নেই। কেউ হয়তো নির্ধারিত দিনে যাত্রা করতে পারেননি, আবার কারও ক্ষেত্রে পরবর্তী যাত্রার সময় নির্ধারণের অপেক্ষা থাকতে পারে। তবে যাত্রীদের পুনরায় টিকিট দেওয়ার ব্যবস্থা, নতুন ফ্লাইটের সময়সূচি বা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখানে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। তাই এসব বিষয়ে নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।

ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ায় অনিশ্চয়তা কয়েক দিন ধরে চলছে। সংখ্যা ১৩৫-এ ওঠায় সৌদি আরবগামী যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি কতটা বিস্তৃত হয়েছে, তার একটি ধারণা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ২০ হাজারের বেশি যাত্রীর হিসাব দেখাচ্ছে, সিদ্ধান্তটির প্রভাব শুধু একটি বা দুটি ফ্লাইটে সীমাবদ্ধ নয়। তবে প্রতিদিনের বাতিল ফ্লাইট ও যাত্রীর সংখ্যা আলাদাভাবে প্রকাশ না হওয়ায় দিনভিত্তিক পরিবর্তন বোঝা যাচ্ছে না।

রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকার বিষয়টি ফ্লাইট পরিচালনার ওপর প্রভাব ফেলেছে। নিরাপত্তা বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে ওই রুটে ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিমান চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে স্বাভাবিক সময়সূচি বজায় রাখা সম্ভব হয় না; তবে কোন বিমানবন্দর কত সময় বন্ধ থাকবে বা কখন পরিস্থিতি বদলাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখানে নেই। ফলে ফ্লাইট চালুর নির্দিষ্ট সময়ও বলা যাচ্ছে না।

যাত্রীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাঁদের নির্ধারিত ফ্লাইটের অবস্থা জানা। ১৩৫টি ফ্লাইট বাতিলের সামগ্রিক হিসাব প্রত্যেক যাত্রীর টিকিটের পরিবর্তন বা নতুন যাত্রার সময় জানায় না। বাতিল হওয়া ফ্লાઇટে বুকিং থাকা ব্যক্তিদের জন্য পরবর্তী ব্যবস্থা কী, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের ঘোষণাই নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারে। তবে কোনো নতুন সময়সূচি বা পুনরায় যাত্রার নিশ্চয়তা প্রকাশিত হয়নি। পরিস্থিতি বদলালে বাতিলের সংখ্যা এবং যাত্রীদের জন্য নেওয়া ব্যবস্থারও পরিবর্তন হতে পারে।

এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো, ১০ অক্টোবর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি গন্তব্যে ১৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং এতে ২০ হাজার ৬৭২ জন যাত্রী প্রভাবিত হয়েছেন। বাতিলের পেছনে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার পর সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। ফ্লাইট চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে, আটকে পড়া বা যাত্রা করতে না পারা যাত্রীদের কত দ্রুত নতুন ব্যবস্থা দেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন