দুর্গাপূজা, দশেরা ও নবরাত্রির উৎসবমুখর দিন শেষ হতে না হতেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ফের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ‘জ্ঞানেশ হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ এই মূল দাবি নিয়ে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘পিপল এগেইনস্ট এসআইআর’ নামের একটি নতুন সংগঠন। মাত্র এক সপ্তাহ আগে আত্মপ্রকাশ করা এই গোষ্ঠীটি আগামী শুক্রবার এক বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা কনট প্লেসের কাছে অবস্থিত বাংলা সাহেব গুরুদ্বারের সামনে সমবেত হবেন। সেখান থেকে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে তারা নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের অভিমুখে যাত্রা করার পরিকল্পনা করেছেন। তবে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের জন্য তারা পুলিশের কাছ থেকে কোনো ধরনের পূর্বানুমতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
আয়োজকদের কৌশল বেশ চমকপ্রদ। তারা জানিয়েছে, পুলিশ যদি তাদের পথরোধ করে বা বাধা দেয়, তবে আন্দোলনকারীরা কোনো ধরনের সংঘাতে জড়াবেন না। বরং যে স্থানে পুলিশি বাধার মুখে পড়বেন, ঠিক সেখানেই তারা ‘জনতার সংসদ’ বা ‘পিপলস পার্লামেন্ট’ গঠনের ঘোষণা দেবেন। সেখানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে তারা তাদের প্রতিবাদী অবস্থান শেষ করবেন। তাদের স্লোগানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘প্রতিটি গলি যন্তর মন্তর’, ‘প্রতিটি এলাকা যন্তর মন্তর’ এবং ‘আমাদের ঘর যন্তর মন্তর’। এই বার্তাটির মাধ্যমে তারা বোঝাতে চাইছেন যে, যন্তর মন্তরের মতো প্রতিবাদের প্রতীকী স্থান তারা পুরো শহরজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চান। তাদের ভাষ্যমতে, শুধু দিল্লি নয়, এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল এবং জ্ঞানেশ অপসারণের দাবিতে এই আন্দোলন পুরো দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
তবে শুক্রবারের এই কর্মসূচি সফল করা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ, মিছিলের নির্ধারিত রুট এবং বিক্ষোভের সম্ভাব্য স্থানগুলোতে বর্তমানে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে। এই ধারার অধীনে চার বা ততোধিক ব্যক্তির জনসমাগম আইনত নিষিদ্ধ। পাশাপাশি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় স্লোগান দেওয়া, প্ল্যাকার্ড বা ব্যানার বহন করা, যেকোনো ধরনের ভাষণ দেওয়া কিংবা অস্ত্র সঙ্গে রাখা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কতটা ছাড় দেওয়া হবে বা আন্দোলনকারীরা কীভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক পর্যবেক্ষণ করছেন।
এই ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অভিযান’-এ সংহতি জানিয়েছেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজকর্মীরা। এতে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন ‘আইসা’-এর নেত্রী নেহা বোরা এবং সিপিএম নেত্রী ঐশী ঘোষকে। এছাড়াও প্রখ্যাত আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, দক্ষিণি অভিনেতা ও সক্রিয় কর্মী প্রকাশ রাজ, উত্তর প্রদেশের পরিচিত কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েত, সমাজকর্মী তুষার গান্ধী এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ পরকলা প্রভাকরকে এই কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অর্থনীতিবিদ পরকলা প্রভাকর ইতোমধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে ‘নাগরিকত্বের রক্তহীন রাষ্ট্রক্ষমতা’ হিসেবে অভিহিত করে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে, আগামী শুক্রবারের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে এখন সবার নজর রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৮:১৪ অপরাহ্ণ