গাজায় ভয়াবহ খাদ্যসংকট: ত্রাণ সহায়তা কমিয়ে দিল ডাব্লিউএফপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:১৪ অপরাহ্ণ

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সীমিত হয়ে আসায় প্রায় ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি এখন তীব্র খাদ্যসংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি) থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছাতে না পারায় সাধারণ মানুষের জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত এবং অবরোধের কারণে গাজার অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আগে থেকেই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মানুষেরা এখন নতুন করে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। ত্রাণ সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে ক্ষুধা ও অপুষ্টি জনিত সমস্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

গাজার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে না পারায় সেখানকার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি তাদের সাধ্যমতো সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও অর্থের সীমাবদ্ধতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং খাবার জোগাড় করাটাই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ত্রাণকর্মীরা।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বারবার এই মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ত্রাণ সহায়তা যদি দ্রুত বাড়ানো না হয়, তবে গাজায় অচিরেই দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। অবরুদ্ধ অঞ্চলে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখা এখন সময়ের প্রধান দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও পরিস্থিতির স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো অধরা। গাজার সাধারণ মানুষ এখন একদিকে সংঘাতের হুমকি, অন্যদিকে চরম ক্ষুধা ও অভাবের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন। ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা এই লক্ষাধিক মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে এখনই জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন