নরসিংদীতে প্রিন্টিং কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ: দগ্ধ ১১ জন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ

নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় একটি স্থানীয় প্রিন্টিং কারখানায় ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় মোট ১১ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণের পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজধানী ঢাকার হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে দগ্ধদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দগ্ধদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে বা আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের শরীরের অনেকটা অংশ পুড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। বাকিদের অবস্থাও গুরুতর এবং তাদের প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে নিয়মিত কাজ চলছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে বয়লারটি বিস্ফোরিত হলে ভেতরে কর্মরত শ্রমিকরা আগুনের কুণ্ডলীর কবলে পড়েন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কারখানার ভেতরে থাকা শ্রমিকরা পালানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই অগ্নিদগ্ধ হন। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের মানুষ দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেন এবং অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দগ্ধদের নরসিংদী থেকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কারখানাটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না বা বয়লার রক্ষণাবেক্ষণে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কেন বা কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটল, তা অনুসন্ধানের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। বয়লারের ভেতরে অতিরিক্ত চাপ ছিল কি না কিংবা যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা বিশেষজ্ঞ দল তদন্ত করে দেখবে। কারখানার মালিকপক্ষের সাথেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তাদের দায়িত্বহীনতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে কারখানায় কাজ বন্ধ রয়েছে এবং এলাকাটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভিড় করেছেন। শ্রমিকদের সুস্থতার জন্য সকলে প্রার্থনা করছেন। কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবিও উঠেছে স্থানীয় মহলে। দগ্ধদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এই ঘটনার ফলে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে এবং মালিকপক্ষকে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ ও কারখানার লাইসেন্সসহ যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন