ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের উন্নয়নে ঐক্যের ডাক প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশবাসীর প্রতি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ডাক দিয়েছেন তিনি। সরকারি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিটি মানুষের ঘাম ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে আমাদের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতির পথ। বিভেদ ভুলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়েই জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জাতীয় সংহতি ও উন্নয়নের বার্তায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ক্রীড়াক্ষেত্র। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, খেলাধুলা কেবল প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়। এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সম্প্রীতি এবং দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। মাঠের খেলা যেমন খেলোয়াড়দের মধ্যে ঐক্য ও শৃঙ্খলা শেখায়, তেমনি বৃহত্তর পরিসরেও এই মূল্যবোধগুলো চর্চার মাধ্যমে জাতীয় চরিত্র গঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, খেলার মাঠ থেকে পাওয়া এই ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যের চেতনা যদি আমাদের প্রতিদিনের কর্মজীবনে প্রতিফলিত হয়, তবেই দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যুগ যুগ ধরে মিলেমিশে বসবাস করছে। এই বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তির উৎস। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে দেশ গঠন ও আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ধর্মের মানুষ নয়, বরং আপামর জনসাধারণের অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের সামগ্রিক কল্যাণ সম্ভব নয়। তাই সংকীর্ণতাকে পেছনে ফেলে উদার ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার যে যাত্রা শুরু হয়েছে, সেখানে সবার অবদান সমান গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। ক্রীড়াচর্চা ও স্বাস্থ্যকর বিনোদনের মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদকমুক্ত ও আদর্শবান করে তোলা সরকারের একটি বড় লক্ষ্য। খেলাধুলা কেবল শরীর চর্চা নয়, বরং এটি তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি করে। তাই গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত প্রতিটি প্রান্তে খেলার মাঠ নিশ্চিত করা এবং ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে জাতীয় সংহতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষক মহল। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে সবার সম্মিলিত পরিশ্রম ও দেশপ্রেমই পারে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে এক উচ্চাসনে আসীন করতে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুনরায় দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, দেশের মাটিতে আমাদের পরিচয় কেবল বাংলাদেশি হিসেবে। ধর্মের পরিচয় নিজের, কিন্তু দেশ সবার। এই পরিচয়কে পুঁজি করেই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন