বাংলাদেশি পরিচয়েই সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে সব নাগরিককে বাংলাদেশি হিসেবে অভিহিত করেছেন। সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠের সংকীর্ণ বিভাজন ভুলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অভিন্ন পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই দর্শন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার সমান এবং এই পরিচয়ই সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত।

জাতীয় ঐক্যের এই বার্তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি খুলনা ও মোংলা সফর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এই সফর মূলত দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং নতুন নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিচালিত হবে। মোংলা ও খুলনার শিল্পাঞ্চল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির অন্যতম ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী তার এই সফরে বন্দরের আধুনিকায়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক জিডিপিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খুলনা ও মোংলা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে সরকার নতুন শিল্প বিনিয়োগের যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সেই প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীমহল এবং সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হলে এই অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। খুলনা ও মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে শুধু স্থানীয় অর্থনীতিই চাঙ্গা হবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের প্রাক্কালে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়নের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে সরকার সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মোংলা বন্দরকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে এটি আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের সাথে আলোচনার বিষয়বস্তুও গুরুত্ব পাবে এই সফরে।

একদিকে জাতীয় ঐক্যের বার্তা এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পরিকল্পনা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে দেশের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে চাইছেন সরকারপ্রধান। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে যে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশের সকল ধর্মের ও বর্ণের মানুষকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলে কাজ করলেই দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের সমন্বিত এই রূপকল্পই এখন দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার সফরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথেও বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেবেন এবং কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা দূর করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। সবমিলিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছেন, যা আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন