জন্মনিবন্ধন পাচ্ছে না যৌনপল্লির শিশুরা, বাধা কোথায়?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৫ অপরাহ্ণ

বয়স পাঁচ বছর পেরিয়েছে জাহিদ হাসানের (ছদ্মনাম)। তার টিকা কার্ড আছে, কিন্তু জন্মনিবন্ধন হয়নি। শিশুটির জন্মনিবন্ধন না হওয়ার পেছনে সামনে এসেছে তার মায়ের পরিচয়সংক্রান্ত নথির ঘাটতি। নাজমা খাতুন (ছদ্মনাম) নিজেই জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র—কোনোটিরই মালিক নন। ফলে সন্তানের পরিচয় নথিভুক্ত করার বিষয়টি কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

জাহিদ ও তার মায়ের ঘটনা যৌনপল্লির শিশুদের জন্মনিবন্ধন নিয়ে থাকা সমস্যার একটি দিক তুলে ধরে। শিশুটির বয়স পাঁচ বছরের বেশি হলেও তার কাছে থাকা টিকা কার্ড জন্মনিবন্ধনের বিকল্প হয়ে ওঠেনি। আবার মায়ের নিজের পরিচয়-সংক্রান্ত নথি না থাকায় সন্তানের নিবন্ধনের পথও সহজ হয়নি। উপলব্ধ তথ্য থেকে বোঝা যায়, এখানে শিশুর টিকা নেওয়া বা বয়সের চেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মায়ের নথিপত্রের অনুপস্থিতি।

জন্মনিবন্ধন একটি শিশুর পরিচয়কে সরকারি নথিতে লিপিবদ্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ উপায়। শিশুর নাম, জন্মের তথ্য ও অভিভাবক-সংক্রান্ত পরিচয় নথিভুক্ত থাকলে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে পরিচয় যাচাইয়ের ভিত্তি তৈরি হয়। তবে জাহিদের ক্ষেত্রে টিকা কার্ড থাকা সত্ত্বেও নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি। এতে বোঝা যায়, শিশুর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো কাগজ থাকা আর জন্মপরিচয় সরকারি নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া—দুটি আলাদা বিষয়।

মায়ের নথি না থাকার বিষয়টি সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একজন শিশুর পরিচয় নথিভুক্তির উদ্যোগে অভিভাবকের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে; কিন্তু অভিভাবকের নিজের পরিচয়ই যখন সরকারি নথিতে নেই, তখন সন্তানের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, সে প্রশ্ন সামনে আসে। জাহিদের ক্ষেত্রে এই বাধা কীভাবে দূর করা যাবে, কোন দপ্তরে আবেদন করতে হবে কিংবা বিকল্পভাবে কী নথি গ্রহণযোগ্য—এসব বিষয়ে পাওয়া তথ্যের মধ্যে বিস্তারিত নেই। তাই নির্দিষ্ট কোনো সমাধান বা আবেদনপ্রক্রিয়ার কথা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ঘটনাটি যৌনপল্লির শিশুদের জন্মনিবন্ধন না হওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শুধু জাহিদের তথ্য থেকে সমস্যার ব্যাপ্তি বা একই পরিস্থিতিতে থাকা শিশুর সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। তেমনি মায়ের নথি না থাকার পেছনে কী পরিস্থিতি কাজ করেছে, সেটিও জানা যায়নি। তবে এই একটি ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, শিশুর নিজের প্রয়োজনীয় কাগজ হিসেবে টিকা কার্ড থাকলেও তা মায়ের পরিচয়সংক্রান্ত ঘাটতি মেটাতে পারেনি। ফলে নিবন্ধনের বাধা শিশুর বয়স বা টিকাদানের তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পরিবারের নথির অবস্থাও এখানে বিবেচ্য হয়ে উঠেছে।

জন্মনিবন্ধন না থাকলে ভবিষ্যতে শিশুর পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে অসুবিধা হতে পারে—এটি এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগের একটি কারণ। তবে জাহিদের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে কোনো নির্দিষ্ট সেবা, শিক্ষা বা অন্য কাজে বাধা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তার জীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, তা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। নিশ্চিত তথ্য হলো, বয়স পাঁচ বছর পেরোলেও তার জন্মনিবন্ধন হয়নি এবং তার মায়ের জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নেই।

এ ধরনের ঘটনায় শিশুর নথির ঘাটতিকে কেবল একটি ফরম পূরণ বা আবেদন জমা দেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে মূল জটিলতা আড়ালে থেকে যেতে পারে। কারণ অভিভাবকের পরিচয় নথিভুক্ত না থাকলে সন্তানের নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য কীভাবে যাচাই হবে, তা স্পষ্ট করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলে পরিবারটি কোন পথে এগোতে পারবে, সেটিও পরিষ্কার হতে পারে। তবে জাহিদের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, আবেদন করা হয়েছে কি না কিংবা কোনো দপ্তর থেকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে কি না—এসব তথ্য পাওয়া যায়নি।

জাহিদ হাসান ও নাজমা খাতুন—দুজনের নামই ছদ্মনাম। তাদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত উপকরণে নেই। ফলে শিশুটি কোথায় থাকে, স্থানীয়ভাবে কারা নিবন্ধনের উদ্যোগ নিতে পারেন কিংবা একই সমস্যায় থাকা অন্য শিশুদের অবস্থা কী—এসব বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়। এই সীমিত তথ্যের মধ্যেও একটি বিষয় স্পষ্ট: শিশুর টিকা কার্ড থাকা সত্ত্বেও জন্মনিবন্ধন হয়নি, আর মায়ের পরিচয়পত্রের অভাব নিবন্ধনের পথে বাধা হিসেবে রয়েছে।

জন্মনিবন্ধনের আওতায় আসার জন্য এমন পরিবারের ক্ষেত্রে কী সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণে শিশুর পাশাপাশি অভিভাবকের নথির অবস্থাও দেখতে হবে। জাহিদের ঘটনা সেই প্রয়োজনের দিকেই নজর ফেরায়। তবে তার নিবন্ধন কবে বা কীভাবে হবে, কিংবা একই অবস্থায় থাকা শিশুদের জন্য কোনো বিশেষ উদ্যোগ আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তাই নিশ্চিত তথ্যের বাইরে না গিয়ে বলা যায়, শিশুটির জন্মনিবন্ধন আটকে আছে এমন এক পরিস্থিতিতে, যেখানে তার নিজের টিকা কার্ড থাকলেও মায়ের জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুপস্থিতি সমাধানের পথকে জটিল করেছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন