রাজশাহীতে বন্ধ কলকারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি রুহুল কবির রিজভীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহীতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং কলকারখানাগুলো পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কারখানাগুলো চালু করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতা ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান প্রশাসনের। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানিয়েছেন, দেশের শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

দীর্ঘ সময় ধরে রাজশাহীর বিভিন্ন শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় ওই অঞ্চলের অর্থনীতি ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকারত্বের শিকার হয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পায়নের যে সম্ভাবনা ছিল, তা অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। এখন সেই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে সরকার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন রিজভী। তিনি বলেন, উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিল্প খাতের বিকাশ অপরিহার্য এবং এ লক্ষ্যে রাজশাহীর বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর তালিকা ও বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হচ্ছে।

তবে শুধু কলকারখানা চালু করাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য নয়, বরং মানসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারখানাগুলো চালুর প্রক্রিয়া শুরুর খবরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা দাবি জানিয়ে আসছিলেন যেন এই শিল্পাঞ্চলগুলোকে পুনরায় কার্যকর করা হয়। রুহুল কবির রিজভীর এই বক্তব্যকে স্থানীয়রা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

শিল্প অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, রাজশাহীতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি কলকারখানা সচল করা সম্ভব হলে তা উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে। এর ফলে কেবল কর্মসংস্থান বাড়বে না, বরং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের বাজার প্রসারিত হবে এবং দেশের সামগ্রিক জিডিপিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে কারখানাগুলো চালুর ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগের প্রাপ্যতা এবং কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শিল্প খাতের এই সংকট নিরসনে সরকারের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রিজভী উল্লেখ করেন যে, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। সেই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী অঞ্চলের শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্ধ কারখানাগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সেগুলো উৎপাদনমুখী করা সম্ভব হবে।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা এবং শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে কারখানাগুলো পুনরায় চালুর রোডম্যাপ তৈরির কাজ চলছে বলে জানা গেছে। প্রকল্পটি সফল হলে তা রাজশাহী অঞ্চলের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন