ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার কাশিপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফায় চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই কাশিপুর এলাকায় স্থানীয়ভাবে নিজেদের প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সকালের দিকে এই বিরোধ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় থেকে একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ২০টি বসতঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা বাড়িঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ও মালামাল তছনছ করে এবং দরজা-জানালা ভেঙে ফেলে। এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। সংঘর্ষের কারণে এলাকাটিতে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশি উপস্থিতির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও জনমনে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। ঘটনার বিষয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় টহল জোরদার করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো সংঘাতের ঘটনা না ঘটে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন এবং যারা এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে তাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কাজ শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয়ভাবে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ ছিল কিনা বা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কালীগঞ্জ পৌরসভার কাশিপুর এলাকায় এটিই প্রথম ঘটনা নয়, এর আগেও নানা সময়ে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধের খবর পাওয়া গেছে। তবে এবারের সংঘর্ষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ