সৌদি আরবের ভূখণ্ডে আবারো ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সর্বশেষ এই হামলায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনকে বেছে নেওয়া হয়। এর ফলে ওই স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
১৪ অক্টোবর ভোরে হঠাৎ করেই সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো চালানো হয়। স্থানীয় সময় রাত এবং ভোরের মাঝামাঝি সময়ে একাধিক ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে উড়তে দেখা যায়। এই আক্রমণগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে আঘাত হানা। হামলার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভাতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং আরামকো কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়মিতভাবেই সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের হামলার তীব্রতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেড়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তারা প্রায়ই সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোয় আঘাত হানার চেষ্টা করে। এবারের হামলাটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশেষ করে আরামকোর মতো স্পর্শকাতর স্থানে হামলা চালানোকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আরামকো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, তাই এ ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় তেলের সরবরাহ চেইন নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো বড় কোনো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তারা তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি হামলাকারীদের চিহ্নিত করে জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এর আগে বেশ কয়েকবার হুথি বিদ্রোহীরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরের মতো স্থানে হামলা চালিয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিকভাবে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষিত রাখার ব্যাপারে সৌদি সরকার সবসময়ই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করছে।
সৌদি আরবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মিত্ররাও এই হামলার ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে হুথিরা মূলত তাদের সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি সৌদি আরবের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করার দাবি করা হয়। এবার আরামকোর ভবনে আঘাত হানার ঘটনাটি নিরাপত্তা বেষ্টনী নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:০২ অপরাহ্ণ