সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিতে সরকারের পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

আলোকিত ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:৫৭ অপরাহ্ণ

সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিত নগরায়ণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নাগরিকদের জন্য শুধু একটি ঘর তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; নিরাপদ পরিবেশ, প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বাসযোগ্য আবাসনের সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়োনিষ্কাশন, ভালো সড়ক ও গণপরিবহন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয় সরাসরি যুক্ত। তাই আবাসন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এসব নাগরিক সুবিধাকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণ ও শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ বাড়ার কারণে আবাসন ও নাগরিক সেবার ওপর নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব বাড়ায় পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন আরও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এই পরিস্থিতিতে সরকার নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এবং পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। নিম্ন ও নিম্নমধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য আবাসনের সুযোগ বাড়ানো এবং নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করাকেও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পরিকল্পিত আবাসন ও সুস্থ পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে ব্লকভিত্তিক আবাসন, এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ এবং নির্দিষ্ট এলাকায় শিল্প স্থাপনের মতো পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন বিবেচনায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা সহজ কাজ নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আবাসনের সঙ্গে নাগরিক সেবা, পরিবেশ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগকে সমন্বিতভাবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশ্ব বসতি দিবসের এবারের আলোচনায় মূলত এমন একটি নগর ও আবাসনব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে মানুষের নিরাপত্তা, সামর্থ্য, পরিবেশ এবং মৌলিক নাগরিক সুবিধা একসঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে দেশের মানুষের জন্য আরও বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র:
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন