বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষকতা পেশা কেবল উপায়হীন কোনো বিকল্প হতে পারে না। এই পেশা অত্যন্ত সম্মানের ও দায়িত্বের, যা সমাজ গঠনে মূল ভূমিকা পালন করে। সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জাতির মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর হিসেবে শিক্ষকদের অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন সরকার প্রধান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১০০ জন গুণী শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। পদকের পাশাপাশি তাঁদের হাতে সম্মানসূচক স্মারকও তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষকতায় দীর্ঘকালীন নিষ্ঠা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই শিক্ষকদের নির্বাচিত করা হয় বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাঁরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই সীমাবদ্ধ রাখেন না, বরং আগামী প্রজন্মের নৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে অনন্য ভূমিকা রাখেন। শিক্ষকতা পেশাকে তিনি একটি মহান ব্রত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা সততা ও নিষ্ঠার সাথে শিক্ষার্থীদের আলোকিত পথের দিশা দেখান, তাঁরাই প্রকৃত অর্থে জাতির বিবেক।
শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে এবং শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। গুণী শিক্ষকদের এমন সম্মাননা প্রদান সেই অঙ্গীকারেরই একটি অংশ মাত্র। বর্তমান সরকার মনে করে, মেধাবী এবং যোগ্য ব্যক্তিদের এই পেশায় আকৃষ্ট করতে হলে সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তার জায়গাটি সুনিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিশ্ব শিক্ষক দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সুসম্পর্কই একটি সফল শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সম্মাননা প্রাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এই আয়োজনটি ছিল অনেকটা উৎসবমুখর। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা খাতের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যেসব শিক্ষক নিজেদের অবস্থানে থেকে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে এদিন পুরো মিলনায়তন যেন এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। শিক্ষকরাও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারের এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনে শিক্ষক সমাজকে আরও বেশি উৎসাহিত করবে এবং শিক্ষার গুণগত মান অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সকলের উদ্দেশে বলেন, একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানদীপ্ত বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষকদের হাতেই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব পালনে সরকার সবসময় তাঁদের পাশে থাকবে।

আলোকিত ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ৯:০৬ অপরাহ্ণ