রাজধানীতে অটোচালকদের সড়ক অবরোধ, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:৪৪ অপরাহ্ণ

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার সকাল থেকে অটোরিকশা চালকদের অবরোধের ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল সাড়ে দশটার পর থেকে শত শত চালক একযোগে রাস্তায় অবস্থান নেওয়ায় প্রেস ক্লাবের সামনের প্রধান সড়কের দুই পাশে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। অবরোধকারী চালকরা তাদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে স্লোগান দেন এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে তাদের দাবিগুলো দ্রুত বিবেচনার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে অটোরিকশা চালকরা তাদের জীবিকার নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছেন। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় অটোরিকশা ডাম্পিং ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে এবং তাদের দাবি পূরণ করা না হলে তারা সারা দেশ অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘসময় ধরে এই সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলে, যার প্রভাবে আশেপাশের এলাকাগুলোতেও যানজটের রেশ ছড়িয়ে পড়ে। রামপুরা, বাড্ডাসহ রাজধানীর অন্যান্য এলাকা থেকেও অটোরিকশা চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে, কারণ চালকদের একটি বড় অংশই প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন।

অবরোধের এক পর্যায়ে দুপুরের দিকে চালকরা তাদের কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করে রাস্তা ছেড়ে দেন। তবে যাওয়ার আগে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাদের দাবিগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে না দেখলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ইতিবাচক সমাধানের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে সক্রিয় থাকার বার্তাও দিয়ে রেখেছেন।

উল্লেখ্য যে, অটোচালকদের এই আকস্মিক অবরোধের ফলে সপ্তাহের শুরুর দিনেই যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অফিসগামী যাত্রী ও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় যানজটে আটকা পড়েন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং যানজট নিরসনে কাজ করেন। চালকদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান, কিন্তু তাদের জীবিকার ওপর আঘাত আসলে তারা পিছু হটবেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে অটোরিকশা খাতের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার বিষয়ে চালকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই আজকের এই অবরোধকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী দিনগুলোতে তাদের দাবি নিয়ে কোনো আলোচনা হয় কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন