অক্সিজেন থেরাপি অত্যাবশ্যকীয় সেবা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আলোকিত ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ৯:৫১ অপরাহ্ণ

অক্সিজেন থেরাপিকে প্রথমবারের মতো অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময়ের জন্য অক্সিজেন রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে সরকার। তবে রোডম্যাপের নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়নের সময়সূচি কিংবা কোন কোন খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

রোববার, ৪ অক্টোবর, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট ২০২৬’-এর উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সংলাপে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। অক্সিজেন থেরাপির স্বীকৃতি এবং আগামী কয়েক বছরের জন্য রোডম্যাপ তৈরির উদ্যোগ—দুটি বিষয়ই ছিল তাঁর বক্তব্যের মূল দিক। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় অক্সিজেনের গুরুত্বকে সরকারি পর্যায়ে অত্যাবশ্যকীয় সেবা হিসেবে বিবেচনার কথা সামনে এসেছে।

অক্সিজেন থেরাপি বলতে চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থাকে বোঝায়। শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হলে বা শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে চিকিৎসকেরা রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে এ ধরনের সহায়তা দিতে পারেন। রোগীর প্রয়োজন, চিকিৎসার পরিবেশ এবং ব্যবহৃত পদ্ধতি অনুযায়ী অক্সিজেন দেওয়ার ধরন ভিন্ন হতে পারে। তাই এটি কেবল সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয় নয়; চিকিৎসার প্রয়োজন নির্ধারণ এবং সেবা দেওয়ার ব্যবস্থার সঙ্গেও জড়িত।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে অক্সিজেন থেরাপিকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হলেও, এ স্বীকৃতির প্রশাসনিক বা আইনগত পরিসর সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। কোন প্রতিষ্ঠান বা সেবার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে, সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কীভাবে ভাগ হবে, কিংবা রোগীদের জন্য এর বাস্তব প্রভাব কী হবে—এসব প্রশ্নেরও উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে ঘোষণাটিকে আপাতত সরকারের স্বীকৃতির ঘোষণা হিসেবেই দেখা যাচ্ছে; এর বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন।

একইভাবে ২০২৬-২০৩০ সালের অক্সিজেন রোডম্যাপ তৈরির কাজ চলছে বলে জানানো হলেও, পরিকল্পনায় কী কী লক্ষ্য রাখা হয়েছে তা প্রকাশিত বক্তব্যে স্পষ্ট নয়। অক্সিজেন সরবরাহ, চিকিৎসায় এর ব্যবহার, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা কিংবা সেবার আওতা—কোন বিষয়গুলো রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত হবে, সে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। রোডম্যাপটি কখন চূড়ান্ত হবে এবং তা বাস্তবায়নের ধাপ কী হবে, সেটিও জানানো হয়নি।

স্বাস্থ্যসেবায় অক্সিজেনের প্রয়োজন রোগী ও চিকিৎসার পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলায়। তাই এ ধরনের সেবা অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে বিবেচিত হলে নীতিনির্ধারণ, পরিকল্পনা এবং বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে সামিটে দেওয়া বক্তব্যে সেই সমন্বয়ের কাঠামো বা সেবা পৌঁছে দেওয়ার নির্দিষ্ট পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো, সরকার অক্সিজেন থেরাপিকে অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জন্য রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছে।

‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট ২০২৬’-এর নীতিনির্ধারণী সংলাপে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। অক্সিজেন থেরাপিকে অপরিহার্য সেবা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানানোয় পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশের অপেক্ষা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রোডম্যাপের লক্ষ্য, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সামনে এলে ঘোষণার কার্যকর দিকগুলো আরও পরিষ্কার হবে।

স্বাস্থ্যসেবায় কোনো সেবার স্বীকৃতি ও তার বাস্তব প্রাপ্যতা এক বিষয় নয়। স্বীকৃতি নীতিগত গুরুত্ব নির্দেশ করে, আর সেবা কীভাবে রোগীর কাছে পৌঁছাবে তা নির্ভর করে পরবর্তী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর। এ কারণে অক্সিজেন থেরাপির স্বীকৃতির পাশাপাশি রোডম্যাপের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে এ পর্যায়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে অনুমান করার সুযোগ নেই; প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে কেবল স্বীকৃতি এবং রোডম্যাপ তৈরির কাজ চলার তথ্যই দেওয়া হয়েছে।

আইইউবিতে অনুষ্ঠিত সংলাপটি ছিল সামিটের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী আয়োজন। সেখানে ডা. এম এ মুহিতের বক্তব্যে অক্সিজেন থেরাপির সরকারি স্বীকৃতি এবং ২০২৬-২০৩০ সালের পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়টি উঠে আসে। রোডম্যাপের পরিধি ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হলে অক্সিজেন সেবাকে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন