বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

আলোকিত ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ৯:৩২ অপরাহ্ণ

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে নিরলস শ্রম দেওয়া ১০০ জন গুণী শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সম্মাননা পদক তুলে দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষকদের অবদান ও ত্যাগের স্বীকৃতি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এরপর গুণী শিক্ষকদের হাতে পদক তুলে দেওয়া হয়। পদকের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেকের হাতে বিভিন্ন স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা নির্বাচিত শিক্ষকদের নানা ক্যাটাগরিতে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখা এবং সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদানের জন্য খ্যাতি অর্জন করা শিক্ষকদের এই সম্মাননার জন্য নির্বাচন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শিক্ষকদের জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে তাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষকদের বিকল্প নেই। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনে সঠিক পথপ্রদর্শক হিসেবে শিক্ষকরা যে ভূমিকা পালন করেন, তা সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক সমাজকে আরও উৎসাহিত করতে এবং শিক্ষার পরিবেশকে আরও উন্নত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, শিক্ষাবিদ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। গুণী শিক্ষক সম্মাননা প্রদানের এই উদ্যোগটি শিক্ষাক্ষেত্রে এক ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য যে, প্রতি বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে দেশব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষকদের সম্মান জানানো হয়। এবারের আয়োজনে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এমন স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল এবং সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মাননা সারাদেশের শিক্ষকদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে, যা পরোক্ষভাবে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানের শেষাংশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং শিক্ষকদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা ছিল। যথাযথ মর্যাদায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা খাতের অবদানের কথা আরও একবার নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন