যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সবকটি বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর এই শক্তিশালী বোমারু বিমানগুলো মোতায়েন ছিল। এই বিমানগুলোর উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বরাবরই বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে এসব বিমান সরিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কিছুদিন ধরেই ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিটি ছিল মার্কিন সামরিক তৎপরতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে ইরানের ওপর মার্কিন হামলার পরিকল্পনার সাথে এই বিমানগুলোর সরাসরি সংযোগের বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এসেছিল। দীর্ঘ পরিসরে হামলার সক্ষমতা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানার প্রযুক্তিতে সুসজ্জিত বি-১ বোমারু বিমানগুলো ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলকে শক্তিশালী করেছিল। তবে ঠিক কোন কৌশলগত কারণে বা পরবর্তী কোন গন্তব্যে বিমানগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হলো, সে বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বিবৃতি এখনো পাওয়া যায়নি।
এর আগে ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিটি নিয়মিতভাবে মার্কিন বোমারু বিমানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, এবারের মোতায়েন ছিল কিছুটা ব্যতিক্রম। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এবং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন থেকেই এই বিমানগুলোর উপস্থিতি ছিল সংবাদের শিরোনামে। ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিটি মূলত ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার বিমান সক্ষমতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানে মোতায়েন থাকা বিমানগুলো নিয়মিতভাবে ইউরোপীয় আকাশসীমায় টহল এবং মহড়ায় অংশ নিয়ে আসছিল।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মার্কিন সামরিক কৌশলের একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। এমনও হতে পারে যে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা অভিযান শেষ হওয়ার পর বিমানগুলোকে পুনরায় তাদের মূল ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে অথবা নতুন কোনো ফ্রন্টে মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। যুদ্ধ বা সংঘাতের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সামরিক অভিযানেরই অংশ। তবে বর্তমানে বিমানগুলো সরিয়ে ফেলার ফলে ওই ঘাঁটিতে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ উল্লেখ না করা হলেও, এটি স্পষ্ট যে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির সামরিক গুরুত্ব নতুন করে আবারও প্রমাণিত হয়েছে। এই ঘাঁটির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যেকোনো বড় ধরনের সামরিক কার্যক্রমে এটি অতীতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতে এই ঘাঁটির ভূমিকা কী হবে বা এখানে ফের নতুন কোনো যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হবে কি না, তা দেখার বিষয়। তবে এই মুহূর্তে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে এবং একে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হিসেবেই দেখছেন তারা।

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:৪৫ অপরাহ্ণ