দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মানোন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব বাড়াতে বড় ধরনের আর্থিক বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এক বিশেষ সভায় জানিয়েছেন যে, অ্যাথলেটদের কল্যাণে এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোট ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারি পর্যায়ের এই উদ্যোগ দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতদিন ধরে ক্রীড়াবিদরা যে সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে নিজেদের তৈরি করতেন, এই বরাদ্দের ফলে তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিশাল অঙ্কের তহবিল কেবল খেলোয়াড়দের সম্মানী বা ভাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মূল লক্ষ্য হলো খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জামের জোগান এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রস্তুতির সুযোগ নিশ্চিত করা। খেলাধুলার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অ্যাথলেটদের যাতে আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে না হয় এবং তারা যেন পুরোপুরি মাঠের নৈপুণ্যে মনোযোগ দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এই সরকারি উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বরাদ্দের অর্থের সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি কঠোর তদারকি ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন থেকে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বা নৈপুণ্য নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতি চার মাস অন্তর অন্তর প্রতিটি খেলোয়াড়ের কাজের মূল্যায়ন হবে। এই মূল্যায়নের মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হবে যে, কারা ধারাবাহিকভাবে ভালো করছেন এবং কাদের সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। যারা নিজেদের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারবেন, তারাই দীর্ঘমেয়াদী সরকারি সুবিধার আওতায় থাকবেন। এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়াটি ক্রীড়াঙ্গনে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে অনেক সময় অনুদান বা বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ত। কিন্তু এবার পারফরম্যান্স ভিত্তিক মূল্যায়নের যে নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে, তা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। অ্যাথলেটদের জন্য এটি একটি বড় উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করবে। কারণ এখন থেকে মাঠের ফলাফল সরাসরি তাদের সরকারি সুযোগ-সুবিধার সাথে সম্পর্কিত থাকবে। সরকারের এই কঠোর এবং স্বচ্ছ নীতিমালা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।
সামগ্রিকভাবে, ২০০ কোটি টাকার এই বরাদ্দ কেবল অর্থ নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতের জন্য একটি নতুন স্বপ্ন ও লক্ষ্য। প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন, ভাতার সুষ্ঠু বণ্টন এবং নিয়মিত মূল্যায়নের সমন্বয়ে দেশের খেলোয়াড়রা বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হবেন, এমনটাই প্রত্যাশা ক্রীড়াপ্রেমী মহলের।

আলোকিত ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ