স্বচ্ছ বাস্তবায়নের নজির: খাল পুনঃখনন শেষে সাড়ে ১২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশের সময়: Saturday, 25 July, 2026 । 4:29 pm

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে অব্যয়িত প্রায় ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৪ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। কাজের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের এই উদ্যোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের জলই নদীর ১০ দশমিক ৯০ কিলোমিটার এবং পীরগঞ্জ ইউনিয়নের চাপোর খালের ২ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য সরকার প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দুই তীরে প্রায় ৮ হাজার ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে, জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং সেচ সুবিধা সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণেও গাছগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যয় নির্বাহের পর বরাদ্দের অবশিষ্ট ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৪ টাকা সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

পুরো প্রকল্পে সার্বক্ষণিক তদারকি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম। তাদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং কঠোর নজরদারির কারণেই কাজের মান বজায় রেখেই অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন বলেন, “সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। ইউএনও স্যারের সততা ও দায়িত্বশীলতা প্রমাণ করেছে, সঠিক তদারকি থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব।”

পীরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোখলেসুর রহমান বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। কাজের মান অক্ষুণ্ন রেখে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এটি অন্য উপজেলাগুলোর জন্যও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, *“সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা হয়েছে। কাজ শেষে যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, বিধি অনুযায়ী তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন