ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লী থানাধীন ৬নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ ভাতগাঁও গ্রামে শ্রী শ্রী রসিক রায় জিউ ইস্কন মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তির দখলকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারগঞ্জ ভাতগাঁও গ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী রসিক রায় জিউ ইস্কন মন্দিরের নামে প্রায় ৩৪.৭৯ একর দেবোত্তর সম্পত্তি রয়েছে। ওই সম্পত্তির দখল ও ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সনাতন গৌড়ীয় গ্রুপ ও ইসকন গ্রুপের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল।
এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, ঠাকুরগাঁও মন্দির পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন। এর ফলে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৫ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সনাতন গৌড়ীয় গ্রুপের শ্রী ভবেশ চন্দ্র রায় ও অপু সরকার (বংকেশ) প্রায় ১৬-১৭ একর দেবোত্তর জমি নিজেদের দখলে নিয়ে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করে আসছেন। এ নিয়ে ইসকন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে ভবেশ চন্দ্র রায় ও অপু সরকার গ্রুপের লোকজন বিরোধপূর্ণ জমিতে পূর্বে রোপণ করা সরিষা ক্ষেত তুলে ফেলে বোরো চাষের প্রস্তুতি নিতে গেলে ইসকন গ্রুপের সভাপতি শ্রী সুপেন্দ্রনাথ রায়, সাধারণ সম্পাদক যুগল চন্দ্র রায়, সেবক শ্রী পায়েল কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ প্রায় ৪০-৫০ জন নারী-পুরুষ বাধা প্রদান করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ভূল্লী থানা পুলিশ ও স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ভূমি কর্মকর্তা উভয় পক্ষের সামনে ঘোষণা দেন যে, বিরোধপূর্ণ জমিতে আপাতত চাষাবাদ বন্ধ থাকবে। এরপরও উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা হাতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর্তমানে এলাকায় থানা পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। দেবোত্তর সম্পত্তির দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৮:০৮ অপরাহ্ণ