সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের সন্তান মতিউর রহমান হাসান, যিনি সবার কাছে ‘পাগল হাসান’ নামে পরিচিত, ছিলেন একজন প্রতিভাবান গীতিকার, সুরকার ও সংগীতশিল্পী। তার গানগুলোতে দুঃখ, প্রেম ও আধ্যাত্মিকতার মিশ্রণ ছিল, যা মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে পিতৃহীন হয়ে, হাসান কঠিন দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হন। শিমুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়, যেটিকে তিনি তার ‘ইউনিভার্সিটি’ বলে অভিহিত করতেন। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে, তিনি পড়াশোনা বেশি দূর এগিয়ে নিতে পারেননি।
২০০৬ সালে ডন পরিবেশন করেন হাসান, তার সংগীত গুরু দেবদাস চৌধুরীর হাত ধরে। ২০০৮ সাল থেকে তিনি গীতিকার ও সুরকার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার লেখা ও সুরে আসিফ আকবর, ডলি সায়ন্তনী, সালমা, কাজী শুভসহ
অনেক শিল্পী গান গেয়েছেন। তার লেখা গানের সংখ্যা দুই হাজারের অধিক, যার মধ্যে ‘আসমানে যাইও না’, ‘জীবন খাতায় প্রেম কলঙ্কের দাগ’, ‘মানুষ মইরা গেলে কদর বাইড়া যায়’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল, একটি সংগীত অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে সুরমা সেতুর কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় পাগল হাসান নিহত হন। তার মৃত্যুতে সুনামগঞ্জসহ সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। সংস্কৃতিকর্মীরা তার স্মৃতিকে অমর করে রাখতে ছাতক-দোয়ারাবাজার সেতুর পাশে ‘পাগল হাসান চত্বর’ নামকরণ ও ভাষ্কর্য নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
পাগল হাসানের জীবন ও সৃষ্টিকর্ম বাংলার লোকসংস্কৃতিতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মোঃ রাসেল মিয়া
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ । ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ