ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ চত্বর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ । ৮:১৪ অপরাহ্ণ

জাতীয় সংসদ এলাকাকে ধূমপানমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের আইনপ্রণেতাদের সর্বোচ্চ এই পীঠস্থানকে স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হয়। ধূমপানমুক্ত এলাকা করার প্রস্তাবটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর কমিটির সকল সদস্য সর্বসম্মতভাবে এতে সমর্থন জানান।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সংসদ চত্বরকে ধূমপানমুক্ত করার এই বিশেষ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং সংসদের পবিত্রতা ও পরিবেশের মানোন্নয়নে তিনি এই প্রস্তাবটি রাখেন। সংসদ কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য যে, সংসদ চত্বরের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ এলাকায় সাধারণত দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আইনপ্রণেতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক সমাগম থাকে। ধূমপানমুক্ত ঘোষণা কার্যকর হলে এটি সংসদ এলাকার পরিবেশের ওপর একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংসদ এলাকায় ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল, যার চূড়ান্ত রূপ পেল কার্য উপদেষ্টা কমিটির এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে।

এদিকে, এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আগামী দিনে সংসদের কার্যক্রম ও পরিবেশগত বিভিন্ন দিক নিয়ে কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংসদ অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে এমন একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সংসদ ভবনের ভেতর এবং এর আশেপাশের এলাকায় যাতে ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে শীঘ্রই।

সংসদ এলাকায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর হলে তা একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আইনপ্রণেতারা নিজেরাই যেহেতু এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, তাই এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংসদীয় প্রশাসন তৎপর থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট এলাকায় ধূমপান নিষিদ্ধের এই উদ্যোগটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সংসদ চত্বর হবে একটি আদর্শ ও পরিচ্ছন্ন কর্মক্ষেত্র। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে এবং সংসদ এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নে বড় ধরনের সহায়ক হবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন