রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বৈশ্বিক কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা আইনমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ । ৬:১৫ অপরাহ্ণ

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এবং বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, রোহিঙ্গা সমস্যা কেবল বাংলাদেশের জন্য মাথাব্যথার কারণ নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। তাই এই সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক মহলের সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ মানবিক দিক বিবেচনা করে বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে এই সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান কেবল বাংলাদেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ মাতৃভূমিতে ফেরতের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ প্রয়োগ এবং কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি হতে হবে স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের জীবন ও জীবিকার মান নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।

প্রত্যাবাসনের পূর্বশর্ত হিসেবে মন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, মানবাধিকারের সুরক্ষা, শিক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যেন তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার না হয় এবং স্বাধীনভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, তার গ্যারান্টি প্রদান করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু সহায়তার সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে এসে সমাধানের বাস্তবমুখী পথ তৈরিতে কাজ করতে হবে। তাদের অধিকার এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কখনোই সফল হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান যে কতটা জটিল, সে বিষয়টিও আইনমন্ত্রীর আলোচনায় উঠে আসে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময়ই আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের অনীহা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত পদক্ষেপের অভাবে এই প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি মনে করেন, যদি বিশ্ব সম্প্রদায় তাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় ও কঠোর করে এবং মিয়ানমারের ওপর প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে, তবেই প্রত্যাবাসনের পথ প্রশস্ত হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক। দীর্ঘমেয়াদী এই সংকটের বোঝা বহন করা বাংলাদেশের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। তাই আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য কার্যকর কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সংকটের একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী সমাধান আসবে এবং রোহিঙ্গারা তাদের প্রিয় জন্মভূমিতে নিরাপদে ফিরে যেতে পারবে। সবশেষে তিনি পুনরায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমর্থন ও সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানান।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন