পূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তাইওয়ান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করল। চীনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের কড়া হুঁশিয়ারি ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা এফ-১৬ ব্লক ৭০ মডেলের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় চালানটি হাতে পেয়েছে তাইওয়ান। রবিবার সকালে এই যুদ্ধবিমানগুলো নিরাপদে তাইওয়ানের মাটিতে অবতরণ করেছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিনটি যুদ্ধবিমানের এই দ্বিতীয় চালানটি রবিবার সকালে তাইওয়ানের তাইতুং এলাকার চিহাং বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায়। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিমানগুলোকে নির্ধারিত ঘাঁটিতে অবতরণ করানো হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার দক্ষিণ ক্যারোলিনায় অবস্থিত লকিড মার্টিনের কারখানা থেকে বিমানগুলো যাত্রা শুরু করেছিল। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এবং বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে শেষ পর্যন্ত এগুলো তাইওয়ানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
তাইওয়ানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের আকাশসীমা রক্ষা এবং সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে এই যুদ্ধবিমানগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চীনের বারবার আপত্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এবং তাইওয়ানের মধ্যকার সামরিক সরঞ্জামের এই লেনদেন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বেইজিং এই পদক্ষেপকে তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে এবং অতীতে বহুবার এ ধরনের সামরিক সহযোগিতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এবং তাইপে উভয় পক্ষই দাবি করে আসছে যে, এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তাদের স্ব-সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।
বিশ্লেষকদের মতে, এফ-১৬ ব্লক ৭০ মডেলের এই বিমানগুলোতে অত্যাধুনিক রাডার প্রযুক্তি এবং উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে, যা তাইওয়ানের বর্তমান বিমানবাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই বিমানগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী এই নতুন বিমানগুলোকে দ্রুত পরিচালনার জন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, এই সামরিক সরঞ্জাম হস্তান্তর নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। যদিও চীনের তরফ থেকে প্রতিনিয়ত কড়া সুরেই এর বিরোধিতা করা হচ্ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের অংশ হিসেবে তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সক্ষমতাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এটি তাইওয়ানের জন্য বড় ধরনের এক সামরিক শক্তি অর্জনের ঘটনা হিসেবেই দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে, তাইওয়ানের আকাশে নতুন যুদ্ধবিমানের আগমন আঞ্চলিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ । ৫:১৪ অপরাহ্ণ