রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ । ৪:১৭ অপরাহ্ণ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি মনে করেন, কেবল সরকারের একার প্রচেষ্টায় এই জটিল মানবিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব নয়। বরং দেশের ভেতরে সব রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরি হলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের দাবিগুলো আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।

রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুটি বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ। কয়েক বছর ধরে চলা এই সংকট সমাধানে প্রতিবেশী দেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন। তবে এর জন্য বাংলাদেশের নিজস্ব প্রস্তুতি ও কৌশলগত অবস্থান হতে হবে অত্যন্ত সুসংহত। তিনি উল্লেখ করেন, যদি আমরা দেশের ভেতরে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরি করে বিশ্বদরবারে কথা বলতে পারি, তবে আমাদের কূটনৈতিক নেগোসিয়েশন ও সংলাপের প্রক্রিয়াগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার দেশের স্বার্থে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে ভূমিকা পালন করেছিল, তার ধারাবাহিকতা এবং বর্তমান বাস্তবতাকে সামনে রেখে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি যেন দেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে এটি একটি জটিল প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা রোহিঙ্গা সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, শুধু ত্রাণ সহায়তা দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না, বরং তাদের নিজ দেশে মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনই একমাত্র স্থায়ী সমাধান। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যার প্রশংসা আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃত। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই বোঝা বহন করা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কষ্টসাধ্য। তাই সংকট নিরসনে নতুন কোনো কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার তাগিদ দেন অংশগ্রহণকারীরা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত তাদের স্বদেশে পাঠানো। এই লক্ষ্যে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তুলে ধরছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লে মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে। তবে এর আগে দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন