রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা বাংলাদেশের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ । ২:১৪ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায়ে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই প্রত্যাশার কথা জানান। তিনি বলেন, গণহত্যা মামলার রায় ঘিরে দেশের মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা, তা পূরণ হবে বলেই সরকার বিশ্বাস করে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান এই আইনি লড়াইটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর যে বর্বরোচিত সহিংসতা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার ন্যায়বিচার পাওয়া বিশ্ববিবেকের দায়বদ্ধতা। বাংলাদেশ শুরু থেকেই এই সংকটের শান্তিপূর্ণ ও আইনি সমাধানের পথে অটল রয়েছে। আইসিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। সরকারের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার নিয়ে আয়োজিত ওই কর্মশালায় মন্ত্রী বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের আস্থা অর্জনই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিচার বিভাগকে আরও গতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিচারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। এই শুদ্ধাচার চর্চা বিচারিক সেবার মানোন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো নিয়ে সরকার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী বছরের ১৯ মে এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক ও আইনি প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নৃশংসতার বিষয়টি তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর। মন্ত্রী বলেন, কেবল রায় প্রাপ্তিই শেষ নয়, বরং এই রায়ের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিচারকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা বিচারিক শুদ্ধাচারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। আইনমন্ত্রী সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন বিচারক যখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন, তখন রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থার জায়গাটি সুদৃঢ় হয়। অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও বিচারকাজে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়। সরকারের লক্ষ্য হলো একটি হয়রানিমুক্ত ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, যেখানে সাধারণ মানুষ সহজে ন্যায়বিচার পাবে। সবশেষে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে বাংলাদেশ সফল হবে এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গারা তাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন