পিঠে ব্যথার নীরব কারণ ও প্রতিকারের উপায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ । ১২:১৪ অপরাহ্ণ

দৈনন্দিন জীবনে পিঠে ব্যথা একটি অতি পরিচিত সমস্যা। অনেক মানুষই এই ব্যথাকে কেবল ভারী কোনো বস্তুর আঘাত বা দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পরবর্তী ক্লান্তি হিসেবে দেখে থাকেন। তবে বাস্তবতা হলো, ব্যথার উৎস সব সময় বাহ্যিক আঘাত নয়। আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এই ব্যথার মূল কারণ। অনেক ক্ষেত্রে ভুল ভঙ্গিমায় বসা বা শোয়ার অভ্যাস, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের চাপ কিংবা দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে বসে থাকা পিঠে ব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি মানসিক চাপের কারণেও শরীরে ব্যথার প্রকোপ বাড়তে পারে, যা আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করে যাই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমান বিশ্বে মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাসের অন্যতম একটি প্রধান কারণ হলো কোমরের নিচের দিকে ব্যথা। এই সমস্যাটি এখন বয়স্কদের গণ্ডি পেরিয়ে তরুণ ও মধ্যবয়সীদের মধ্যেও সমানভাবে দেখা যাচ্ছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দশকে এই সমস্যার ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারে। ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০ কোটিরও বেশি মানুষ পিঠে ব্যথার সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সংখ্যাটি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিঠে ব্যথার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। যারা দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে অফিসের কাজ করেন, তাদের প্রতি ঘণ্টায় অন্তত কয়েক মিনিটের জন্য বিরতি নেওয়া উচিত। দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকার ফলে মেরুদণ্ডের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়, তা থেকে মুক্তির জন্য হালকা কিছু ব্যায়াম বা নড়াচড়া প্রয়োজন। এছাড়া শরীরচর্চার সময় সঠিক নিয়ম না মানলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। ব্যায়ামের শুরুতে ওয়ার্ম আপ করা এবং শরীরচর্চার সঠিক কৌশল শিখে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও এখানে অবহেলা করার সুযোগ নেই। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপের ফলে শরীরের পেশিগুলো শক্ত হয়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা তৈরি করে। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ কমানোর চর্চা পিঠের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। পিঠে ব্যথা স্থায়ী হলে বা তীব্র আকার ধারণ করলে কোনোভাবেই তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যথার কারণ নির্ণয় করা জরুরি। কারণ অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে সচেতন হলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনধারা সংশোধন করলে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সুস্থ পিঠ পেতে হলে সচেতনতাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন