রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বিশেষ তৎপরতায় অবৈধভাবে আনা বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও কাস্টমস তল্লাশিতে গত ৬ ও ৭ নভেম্বর ধারাবাহিক বেশ কয়েকটি অভিযানে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়। অবৈধ পথে আসা এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিপুল সংখ্যক ই-সিগারেট, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা সিগারেট, নিষিদ্ধ প্রসাধনী এবং স্বর্ণালংকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দ করা এসব পণ্যের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা।
কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে কঠোর নজরদারি ও তল্লাশি পরিচালনা করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৬ ও ৭ নভেম্বর পৃথক অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার করা পণ্যের তালিকায় রয়েছে ৯০ পিস ই-সিগারেট বা ভেপ ডিভাইস, ১৬৬ কার্টন সিগারেট, ১২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম এবং ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালংকার। চোরাচালান প্রতিরোধে এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পণ্যগুলো আটক করা হয়। বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের মালামাল স্ক্যানিং এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই পণ্যগুলো জব্দ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
অভিযানে জব্দ করা ই-সিগারেট ও ভেপ ডিভাইসগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বিমানবন্দরে চোরাচালানের বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে এগুলো বহন ও বিপণন নিরুৎসাহিত করা হলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে এগুলো দেশে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বিদেশি সিগারেট ও বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ প্রসাধনীও অবৈধভাবে বিমানবন্দরের পথ ব্যবহার করে পাচারের চেষ্টা করা হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এসব পণ্যের চালানের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা দেশের রাজস্ব আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে চোরাচালান ঠেকাতে বিমানবন্দরের প্রতিটি পয়েন্টে কাস্টমস গোয়েন্দাদের তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে। জব্দ করা পণ্যগুলো বিধি মোতাবেক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট শুল্ক আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় এবং গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক প্রয়োগের ফলে সম্প্রতি এ ধরনের বেশ কয়েকটি অবৈধ পণ্যের চালান আটক করা সম্ভব হয়েছে, যা চোরাচালান চক্রের সদস্যদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ । ১২:১৪ অপরাহ্ণ