রাজধানীর বাজারগুলোতে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে শাকসবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরণের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সবজির দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতা সাধারণ ক্রেতাদের মনে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এলেও মাছ ও মাংসের চড়া দাম নিয়ে এখনো রয়ে গেছে চরম উদ্বেগ। ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছ ও মাংসের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই, বরং উল্টো আগের চেয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য। আয় ও ব্যয়ের অসামঞ্জস্যতায় সাধারণ মানুষের হেঁসেলে আমিষের পদ এখন বিলাসী খাবারে পরিণত হয়েছে।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ার কারণে অধিকাংশ সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বর্তমান বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমে আসায় ক্রেতাদের কেনাকাটায় আগ্রহ বেড়েছে। অনেক ক্রেতাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলছেন, সবজির দামের এই পতন পরিবার চালানোর ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও বাড়তি চাপ কমিয়েছে। তবে বাজারে সবজির এই দাম কয়দিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তারা বলছেন, নিত্যপণ্যের দামের অস্থিরতার এই বাজারে সবজির দর যে কোনো সময় আবার বেড়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, মাছ ও মাংসের বাজারের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। সবজির দাম কমলেও মাছের দাম এখনো চড়া। বিশেষ করে সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে মাংসের দাম। হাঁস-মুরগি থেকে শুরু করে গরু কিংবা খাসির মাংসের জন্য বিক্রেতারা বেশ চড়া দর হাঁকছেন। মাছের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি। বাজারে সব ধরণের মাছের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষরা মাছ কেনার ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত হিসেব কষছেন। অনেক পরিবারই এখন তাদের খাদ্য তালিকা থেকে নিয়মিত মাছ ও মাংস বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে না পেরে অনেকেই কেবল সবজির ওপর নির্ভর করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে পণ্যের সরবরাহের পাশাপাশি সিন্ডিকেটের কারসাজি ও পরিবহন খরচসহ বিভিন্ন কারণ মাছ ও মাংসের দাম বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় দাম কমলেও আমিষ জাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাছ ও মাংস থাকা এখন অনেকের জন্যই স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ মানুষের আয় বাড়েনি কিন্তু বাজারে জিনিসপত্রের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফলে সবজির দাম কিছুটা কমলেও মাছ-মাংসের চড়া দামের কারণে স্বস্তির কোনো অবকাশ নেই তাদের জীবনে। ক্রেতারা আশা করছেন, কর্তৃপক্ষ বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করবে এবং মাছ ও মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সবজির মতো মাছ ও মাংসের দামও সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরে আসুক, যাতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ । ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ