জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে পাপিয়ার কঠোর বার্তা: উপযুক্ত স্থান পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ । ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় রাজনীতির মাঠে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশ্য করে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যারা বিরোধিতা করেছিল, তারা বাংলাদেশের নায়ক হতে পারে না। এই রাজনৈতিক শক্তির জন্য এ দেশে কোনো জায়গা নেই এবং তাদের উপযুক্ত স্থান পাকিস্তান বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত শনিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের হরিমোহন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ বক্তৃতায় সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নানা বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট মহল ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী দলগুলো কৌশলে নিজেদের অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে পাপিয়া বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, তাদের রাজনৈতিক অভিলাষ এ দেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। তিনি আরও যোগ করেন, পাকিস্তানপ্রেমী কোনো শক্তির জন্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থান হওয়া উচিত নয়। জনসভায় উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের প্রস্তুত হতে হবে। কারণ এই শক্তিগুলো এ দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং তাদের যথাযথ ঠিকানা পাকিস্তান। তাদের সেখানে ফেরত পাঠানোই এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

আইনজীবী পাপিয়ার এই বক্তব্য জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করে। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং জামায়াতের সাথে বিএনপির আদর্শিক দূরত্ব স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জনসভার মঞ্চ থেকে তিনি দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় বিএনপিকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো অপশক্তি যেন আর কোনোদিন বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে তিনি দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দেন এবং জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনটির চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই প্রতিটি নেতাকর্মীকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। জনসভায় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন। অনুষ্ঠানটি ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। দিনব্যাপী এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন