প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র শ্রমিক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে থমকে যাওয়া জনজীবন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে এবং মহাসড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলও সচল হয়েছে। তবে এই অস্থিরতার রেশ এখনো রয়ে গেছে স্থানীয়দের মাঝে। আন্দোলনের জেরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং নাশকতার অভিযোগে পুলিশের পক্ষ থেকে মোট ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলোতে এখন পর্যন্ত ৭০ জন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা থাকলেও শিল্পাঞ্চলের প্রায় পাঁচ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন কারখানার আশপাশের এলাকাগুলোতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। গত কয়েক দিনের সহিংসতায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী ও শ্রমিকরা এখন কাজের পরিবেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
আন্দোলন চলাকালীন তৌফিক নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্দোলনরত শ্রমিকরা দাবি করেছিলেন যে, এই মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন। তবে বিস্ময়কর তথ্য হলো, তৌফিকের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। কেন এই ঘটনায় এখনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বা কার পক্ষ থেকে মামলাটি দায়ের করার প্রক্রিয়া আটকে আছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানা গেছে।
শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া পর্যালোচনার জন্য মালিকপক্ষ ও প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছে। এদিকে গ্রেফতারকৃতদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় যারা জড়িত ছিলেন, তাদের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করা হচ্ছে। নতুন করে যাতে কোনো অস্থিরতা তৈরি না হয়, সেজন্য কারখানা মালিকদেরও শ্রমিকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সহমর্মিতা থাকলেও সহিংসতার পথ বেছে নেওয়া অপরাধ। ১২টি মামলার তদন্ত কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৌফিকের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সাথেই দেখছে এবং কোনো অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে গাজীপুরের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, তবে শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিটি এখনো বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ । ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ