খুলনা মহানগরীর দক্ষিণ অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার গল্লামারী মোড়। এই এলাকাটি বর্তমানে নতুন এক অবকাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ময়ূর নদের ওপর দুটি নতুন স্টিল সেতু নির্মাণের মাধ্যমে পুরো এলাকাটির দৃশ্যপট বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির সঙ্গে স্থানীয়দের আবেগ ও প্রত্যাশা জড়িত, যার কারণ হলো এর নান্দনিক রূপকল্প, যা অনেক ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে সাজানোর স্বপ্ন দেখিয়েছে নগরবাসীকে। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দাঁড়িয়েছে ধীরগতি। নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে নগরবাসী নিয়মিত এর অগ্রগতির ওপর নজর রাখছিলেন, কিন্তু বর্তমানে প্রকল্পের যে অবস্থা, তাতে নির্ধারিত সময়ে এর সুফল পাওয়া নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নির্মাণকাজের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, প্রায় তিন মাস আগেই সেতু দুটির কাঠামো দৃশ্যমান হয়েছিল। স্টিল স্ট্রাকচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সেতুগুলো সম্পন্ন হলে গল্লামারী এলাকার যানজট নিরসনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু কাঠামো দাঁড়িয়ে গেলেও এর পরবর্তী ধাপগুলোতে কাজ থমকে আছে। বিশেষ করে মূল সেতুর ওপর কংক্রিটের ঢালাই এবং দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কগুলোর বিটুমিন কার্পেটিংয়ের কাজ এখনো অনেক বাকি রয়ে গেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেতুটি যান চলাচলের উপযোগী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
নভেম্বর মাসজুড়েই ছিল জনসাধারণের প্রধান প্রত্যাশা। অনেকে আশা করেছিলেন, মাস শেষ হওয়ার আগেই হয়ত সেতুগুলো উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। চলমান কাজের ধীরগতি দেখে এখন আর কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না, কবে নাগাদ এই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হবে। সড়কের কার্পেটিং এবং ঢালাইয়ের মতো কারিগরি কাজগুলো সময়সাপেক্ষ। অথচ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে যে তৎপরতা প্রয়োজন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করেন, যার মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ চাকুরিজীবী সকলেই রয়েছেন। বিকল্প পথে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের যে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে, তা সমাধানের কোনো বিকল্প নেই।
প্রকল্পের ধীরগতির কারণে শুধু যাতায়াত নয়, সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় জনজীবনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গল্লামারী মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ আটকে থাকা মানেই শহরের স্বাভাবিক গতির ওপর এক প্রকার স্থবিরতা। স্থানীয়রা মনে করছেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি কিংবা তদারকির অভাবই মূলত এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। যদিও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজের তদারকি করার কথা বলে আসছেন, তবে মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতিতে তার কোনো ইতিবাচক প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
শেষ পর্যন্ত, এটি কেবল একটি সেতু নির্মাণের গল্প নয়, বরং এটি খুলনার নগর উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। যদি এই প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শেষ করা না যায়, তবে তা কেবল জনসাধারণের ভোগান্তিই বাড়াবে না, বরং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি মানুষের আস্থাও কমিয়ে দেবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন যদি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে আগামী দিনেও গল্লামারীর এই সেতু নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে। নগরবাসী চাইছেন, কোনো অজুহাত ছাড়াই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটির কাজ সম্পন্ন করে তা যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। এতেই খুলনা শহরের যাতায়াত ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরে আসবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ