নরসিংদীর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় ‘আবু লাল গ্রুপের’ প্রধান গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ৮:১৪ অপরাহ্ণ

নরসিংদী জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও চিহ্নিত অপরাধ চক্র ‘আবু লাল গ্রুপের’ হোতা আবু লালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পলাতক এই অপরাধীকে হবিগঞ্জ এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন এবং আট রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে, যা আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবু লাল দীর্ঘদিন ধরে নরসিংদী ও এর আশেপাশের এলাকায় ‘আবু লাল গ্রুপ’ নামক একটি অপরাধী চক্র পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নরসিংদী সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত আব্দুল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল সে। ঘটনার পর থেকে আবু লাল আত্মগোপনে চলে যায় এবং ছদ্মবেশে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিল। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টায় অবশেষে তাকে হবিগঞ্জ থেকে আটক করা সম্ভব হয়। শনিবার নরসিংদী সদর মডেল থানা মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই গ্রেফতারের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবু লাল জানিয়েছে যে, আধিপত্য বিস্তার ও এলাকায় প্রভাব বজায় রাখতেই সে এই অপরাধ চক্র গড়ে তুলেছিল। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়টি ফরেনসিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবু লাল গ্রেফতার হওয়ায় ওই এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে আসবে বলে তারা আশা করছেন। আটকের পর তাকে নরসিংদী সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাদের এই বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে। আবু লালের সহযোগী অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। আইনত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। এই গ্রেফতারের ফলে চাঞ্চল্যকর আব্দুল্লাহ হত্যা মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে এবং জড়িত অন্যদের বিষয়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এই গ্রেফতারকে ঘিরে কিছুটা স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন