৭ নভেম্বরকে বিপ্লব বললেও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান স্বীকারে বিএনপির দ্বিচারিতা দেখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ৬:১৪ অপরাহ্ণ

রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিহাসের ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিবসের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত জাতীয় নাগরিক পার্টির একটি অনুষ্ঠানে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বিএনপির সমালোচনা করে এমন মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিএনপি ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব হিসেবে ঘটা করে উদযাপন করলেও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে সঠিকভাবে স্বীকার বা স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে দলটির মধ্যে এক ধরনের দ্বিচারিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়শই নিজেদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়কে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা ও উপস্থাপন করে থাকে। তার ভাষ্যমতে, বিএনপি যদি ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব হিসেবে গণ্য করতে পারে, তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার যে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, তাকেও একই গুরুত্বের সঙ্গে স্বীকার করা উচিত ছিল। তিনি মনে করেন, এখানে দলটির অবস্থান অস্পষ্ট এবং সুবিধাবাদী, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব নিয়ে দীর্ঘকাল ধরেই বিতর্ক রয়েছে। বিএনপি এবং এর অনুসারী বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে যে বিশাল গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, এই নতুন গণঅভ্যুত্থান দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই কোনো রাজনৈতিক দল যদি একে অবজ্ঞা বা আংশিক স্বীকৃতি দেয়, তবে তা ইতিহাসের প্রতি অবিচার হিসেবে বিবেচিত হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজনৈতিক কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া কোনো জাতির অগ্রযাত্রা সম্ভব নয়। তিনি বিএনপিকে তাদের অবস্থানের বিষয়ে আরও স্বচ্ছ হওয়ার আহ্বান জানান এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ইতিহাসের দায়বদ্ধতাকে এড়িয়ে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। তার দাবি, শুধু নিজেদের সুবিধামতো ইতিহাস তৈরি বা প্রচার না করে, দেশের বর্তমান সংকট উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শিক অবস্থান নিয়ে এই ধরণের প্রশ্ন বা বিতর্ক আগামী দিনে আরও জোরালো হবে। বিশেষ করে যারা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন এবং যারা গতানুগতিক ধারার রাজনীতি করে আসছেন, তাদের মধ্যে মতাদর্শিক সংঘাত বা পার্থক্য এই ধরণের আলোচনার মাধ্যমেই ফুটে উঠছে। এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতার এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপিকে কার্যত তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার একটি চাপ তৈরি করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

পরিশেষে, হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি কেবল নির্বাচনের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে না, বরং ইতিহাসের সঠিক বয়ান এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার ওপরই নির্ভর করবে দলগুলোর গ্রহণযোগ্যতা। বিএনপি বা অন্যান্য রাজনৈতিক দল এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে বা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। তবে রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছে, প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দলগুলোকে অবশ্যই তাদের দ্বিমুখী আচরণ পরিহার করে স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে হবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন