গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা রুখতে বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ৬:১৪ অপরাহ্ণ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতি এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য নিয়ে কথা বলেন।

এদিন সকালে মাজার প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি মূলত মুক্তি, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা রক্ষা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করার একটি অকুতোভয় চেতনা। ইতিহাসের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে জাতি এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের এই বিশেষ দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশপ্রেমিক জনতা সর্বদা গণতন্ত্রের পক্ষে অবিচল থাকে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন যে, দেশের ভেতরে এবং বাইরে থেকে ক্রমাগত ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি দাবি করেন, বিদেশে অবস্থানরত একটি নির্দিষ্ট অপশক্তি বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণের মাধ্যমে তারা তাদের অশুভ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চায়। তবে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এবং গণতন্ত্রের পক্ষে শক্তির কারণে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রিজভী আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের পক্ষে সোচ্চার। অপশক্তি যতই চেষ্টা করুক না কেন, তারা কখনোই দেশের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করতে পারবে না। ৭ নভেম্বরের আদর্শই হলো সব ধরনের অপশক্তিকে পরাজিত করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। তিনি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়েই আমরা আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের কেন্দ্রীয় নেতারা, অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। সকলেই জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন। মাজার প্রাঙ্গণে নেতাকর্মীদের বিপুল উপস্থিতিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গুরুত্ব নতুন করে উঠে আসে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দিবসটি উপলক্ষে দলটির পক্ষ থেকে সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের অবদান ও ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরা হবে। সবশেষে, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে সকলকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন রিজভী।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন