প্যারাগুয়েতে ব্যাংক ধস ও রাজনৈতিক সংকট: ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা গৃহবন্দি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ৪:১৪ অপরাহ্ণ

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে এক গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া একটি ব্যাংকের আকস্মিক পতনের জের ধরে দেশটির প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা তার ক্ষমতা হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার প্যারাগুয়ের সিনেটে অভিশংসন বা ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত করা হয়। এর পরপরই বিশ্বাসভঙ্গ এবং প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অভিযোগে তাকে গৃহবন্দি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশটি বড় ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

দেশের ব্যাংক খাতের এই বিপর্যয় প্যারাগুয়ের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংকের কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে জমা রাখা আমানতকারীদের অর্থ কার্যত আটকে গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষ এই আর্থিক বিপর্যয়ের সরাসরি ভুক্তভোগী হয়েছেন। জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। এই চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নাগরিকদের দুর্ভোগের দায়ভার শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের কাঁধে এসে বর্তায়।

সান্তিয়াগো পেনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রাষ্ট্রক্ষমতাকে ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের জন্য ব্যবহার এবং জনগণের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে চরম উদাসীনতা। সিনেটররা মনে করছেন, ব্যাংকটির আর্থিক দুরবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই জানাশোনা থাকা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি, যা তার প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আইনপ্রণেতারা অভিশংসনের পক্ষে রায় দেন।

সিনেটের এই সিদ্ধান্তের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। ব্যাংক ধসে আমানতকারীরা তাদের জমানো টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্যারাগুয়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না ঘটে।

এদিকে, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা বর্তমানে তার বাসভবনে গৃহবন্দি রয়েছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত শুরু করেছে। দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত সম্পন্ন করা হবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা প্যারাগুয়ের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কীভাবে এই অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। ব্যাংক খাতের এই বিশৃঙ্খলা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও বড় ধসের মুখে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন