বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১ লাখ সদস্যকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার একটি বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের কারিগরি দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এখন কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কারিগরি দক্ষতার অভাব এবং ভাষাগত জটিলতা দূর করে কিভাবে তাদের বিশ্ববাজারে যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সেই লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে বাহিনীর সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তি ও বিভিন্ন কারিগরি ট্রেডে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। এতে একদিকে যেমন বাহিনীর সদস্যদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথ উন্মোচিত হবে, অন্যদিকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মতে, শুধুমাত্র গতানুগতিক প্রশিক্ষণ দিয়ে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক শ্রমবাজারে টিকে থাকা কঠিন। তাই আধুনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ১ লাখ সদস্যকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা সনদপ্রাপ্ত হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর ফলে তারা বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন এবং প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিও কমবে। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে এই সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও আইনি পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এই পরিকল্পনার আওতায়।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারেন। গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সদস্যরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন, যা তাদের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
সরকারি এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। চাহিদার নিরিখে নির্দিষ্ট ট্রেডগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই জনশক্তিকে বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজতর করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের তরুণরা কেবল সাধারণ শ্রমিক হিসেবে নয়, বরং দক্ষ কর্মী হিসেবে বিদেশে গিয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের logistical সহায়তা এবং তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ১:১৫ অপরাহ্ণ