বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান বরাবরই নিজের কাজের ধরন এবং বক্তব্য নিয়ে আলোচনায় থাকেন। সম্প্রতি নিজের আসন্ন সিনেমা মাতৃভূমি-এর ট্রেলার প্রকাশের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তিনি এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক আগে রামায়ণ কেন্দ্রিক একটি প্রজেক্ট থেকে তার সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি আবারো সামনে এসেছে। সেই সময়ের প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান সময়ের সিনেমা নির্মাণের ধরণ নিয়ে তিনি নিজের মতামত তুলে ধরেছেন।
সালমান খান মনে করেন, বর্তমানে বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চটকদার ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বা ভিএফএক্স এবং বিশাল বাজেটের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সিনেমার প্রাণ হওয়া উচিত তার চরিত্র এবং মূল গল্পের বুনন। তিনি রামায়ণ নিয়ে চলমান সাম্প্রতিক বিতর্ক এবং এর নির্মাণের ধরণ নিয়ে তার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। অভিনেতার মতে, কোন ছবিতে কত টাকা খরচ করা হলো কিংবা প্রযুক্তির কারিশমায় কতটা জাঁকজমকপূর্ণ দৃশ্য পর্দায় আনা হলো, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো দর্শক সেই গল্প এবং চরিত্রের সাথে কতটা একাত্ম হতে পারছেন।
প্রায় ২০ বছর আগে রামায়ণ ভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন সালমান খান। সেই সময়ে কেন তিনি প্রকল্পটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন, সে বিষয়টি নিয়েও তিনি কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বড় কোনো মহাকাব্য বা পৌরাণিক কাহিনী নির্ভর সিনেমা নির্মাণের সময় নির্মাতাদের আরও বেশি সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। কেবল আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দিয়ে মূল কাহিনীর গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন গল্পের সারমর্ম অনুধাবন করার ক্ষমতা।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সালমান খান অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা দর্শকদের উপহার দিয়েছেন। বর্তমানে তার মাতৃভূমি সিনেমাটি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এই ছবির প্রচারণায় এসে তিনি যখন রামায়ণের মতো সংবেদনশীল বিষয় টেনে আনলেন, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই গণমাধ্যমের নজর কেড়েছে।
চলচ্চিত্র সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, সালমান খান পরোক্ষভাবে বর্তমানের বড় বাজেটের প্যান ইন্ডিয়া সিনেমাগুলোর দিকেই ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে কাহিনীর গভীরতার চেয়ে বড় আকারের প্রদর্শনী বা স্পেকটাকলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে সালমান স্পষ্ট করেছেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট নির্মাতাকে আক্রমণ করছেন না, বরং ভারতীয় সিনেমার বিবর্তনের ক্ষেত্রে গল্পের গুরুত্ব হারানো নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। আগামী দিনে তার নিজের কাজের ক্ষেত্রেও যে এই দর্শনের প্রতিফলন ঘটবে, সে বিষয়টিও তিনি পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং চলচ্চিত্র পাড়ায় নতুন করে বিতর্কের পাশাপাশি ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ