যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক বড়সড় ওলটপালট ঘটল। দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই বড় ধরনের পরাজয়ের স্বাদ পাওয়ার পরপরই হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী এবং ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি ও কট্টরপন্থী রাজনৈতিক ধারার প্রধান কারিগর হিসেবে পরিচিত স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ পদে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো যখন ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সুজি ওয়াইলস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয়ের জেরে প্রশাসনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং নতুন করে কৌশল নির্ধারণের অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই দলের ভেতরে এবং বাইরে ট্রাম্পের নেতৃত্ব নিয়ে নানামুখী প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছে সরাসরি হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক কাঠামোতে। স্টিফেন মিলারকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মূলত তার পুরনো ও কট্টর অনুসারীদের ওপরই আস্থা রাখার বার্তা দিলেন।
রাজনৈতিক মহলে স্টিফেন মিলার অত্যন্ত পরিচিত মুখ। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি নিয়ে তার কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি যেমন প্রশংসিত হয়েছেন, তেমনি বিরোধীদের কাছে তীব্র সমালোচনার পাত্রও হয়েছেন। ট্রাম্পের আগের মেয়াদেও অভিবাসন সংক্রান্ত আইন ও নীতি নির্ধারণে মিলারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী। এখন চিফ অব স্টাফ হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্ট অফিসের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন। এটি স্পষ্ট যে, নির্বাচনের ভরাডুবির পর ট্রাম্প তার প্রশাসনের কার্যক্রমে গতি ফেরাতে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক রণকৌশল নতুন করে সাজাতে মিলারের ওপরই ভরসা করছেন।
নির্বাচনের পর থেকেই হোয়াইট হাউসে বড় ধরনের পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। কংগ্রেসের উভয় কক্ষ থেকে রিপাবলিকান পার্টির এই পরাজয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক বড় ধাক্কা। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই রদবদল ট্রাম্পের জন্য এক ধরনের আত্মরক্ষামূলক কৌশল। সুজি ওয়াইলস এর আগে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করলেও, নির্বাচনী ফলাফলের দায়ভার অনেকাংশেই প্রশাসনিক নেতৃত্বের ওপর এসে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সুজি ওয়াইলস তার পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে জানা গেছে।
তবে এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কি নতুন কোনো দিশা পাবে, নাকি পুরনো বিতর্কের জের ধরে আরও জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা এখন বড় প্রশ্ন। স্টিফেন মিলারকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে হোয়াইট হাউস কার্যত তাদের পুরনো কট্টরপন্থী ইমেজে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখন এই নতুন নেতৃত্বের প্রভাব কতটুকু পড়ে এবং সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ